জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, নিহত সেনাদের ঘটনার জবাব দিতে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতেই এই বিমান হামলা চালানো হচ্ছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, অভিযানের লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা কমিয়ে আনা। একই সঙ্গে জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য দায়ী বলে অভিযোগ করা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-কে জবাব দেওয়া।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ জুলাই জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় দুইজন মার্কিন সেনা নিহত হন। এ ঘটনায় আরও একজন সেনা সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।
হামলায় আহত চার মার্কিন সেনাকে জর্ডানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তারা হাসপাতাল ছেড়েছেন। এছাড়া সামান্য আহত অন্যান্য সেনা সদস্যও দায়িত্বে ফিরে গেছেন। গত মার্চের পর এই প্রথম ইরানের সরাসরি হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটল।
এর আগে শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের ‘অপারেশন লাইটনিং’-এর ১৪তম ধাপের অংশ হিসেবে জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটির জ্বালানি সংরক্ষণ স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি জর্ডান ও কুয়েতে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনাতেও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে তেহরান।
ইরানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়, কুয়েতের আল-উদাইরি ক্যাম্পের গোলাবারুদ ডিপো, আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটির সদর দপ্তর, গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার এবং কয়েকটি যোগাযোগ সেতুকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবেই টানা সপ্তম রাতের মতো এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে পাল্টা বিমান হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।



