tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকপশ্চিমবঙ্গে আতঙ্ক, ক্রেতাশূন্য কোরবানির গরুর হাট

পশ্চিমবঙ্গে আতঙ্ক, ক্রেতাশূন্য কোরবানির গরুর হাট

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ গরুর হাট ধুলাগড়ে এখনো জমে ওঠেনি কেনাবেচা। কলকাতার উপকণ্ঠে অবস্থিত এ হাটে দেখা দিয়েছে ক্রেতাশূন্যতা, যা নিয়ে চরম উদ্বেগে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সোমবার (২৫ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে Al Jazeera।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হাটজুড়ে টিনের ছাউনির নিচে অলস সময় কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বিক্রির জন্য আনা দুই শতাধিক গরু খোলা জায়গায় বাঁশের খুঁটিতে বাঁধা অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকলেও দেখা মিলছে না ক্রেতাদের।

পূর্ব মেদিনীপুর থেকে আসা এক হিন্দু ব্যবসায়ী জানান, ঈদ উপলক্ষে গরু কেনার জন্য তিনি উচ্চ সুদে ঋণ নিয়েছেন। সাধারণত আড়াই কোটি মুসলিম অধ্যুষিত পশ্চিমবঙ্গে কোরবানির মৌসুমে জমজমাট ব্যবসা হয়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন।

তার ভাষায়, “মানুষ এখন ভয়ে আছে। গরু কিনবে কে?”

দীর্ঘদিন ধরে ধুলাগড়ের এ হাটে কোরবানির প্রস্তুতি ঘিরে হিন্দু বিক্রেতা ও মুসলিম ক্রেতাদের মিলনমেলা বসত। অনেক মুসলিম পরিবার যৌথভাবে গরু, মহিষ বা উট কোরবানি দিয়ে মাংস ভাগাভাগি করত। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

১৯৫০ সালের একটি আইনে পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশ্যে গরু জবাই নিষিদ্ধ থাকলেও অতীতে তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। ফলে কলকাতা ও আশপাশের অঞ্চল গরুর মাংস ও বিভিন্ন মাংসজাত খাবারের জন্য পরিচিত হয়ে ওঠে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi নেতৃত্বাধীন Bharatiya Janata Party পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর আইন প্রয়োগে কঠোরতা বেড়েছে।

নতুন প্রশাসনের নির্দেশনায় এখন সরকারি অনুমতি ছাড়া গরু জবাই করা যাচ্ছে না। জবাইয়ের জন্য পশুর সনদ, নির্ধারিত কসাইখানা এবং বয়সসংক্রান্ত শর্তও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ভারতের বহু হিন্দু গরুকে পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করেন। এ কারণে দেশটির অধিকাংশ রাজ্যে গরু জবাই নিষিদ্ধ। ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন স্থানে স্বঘোষিত ‘গরু রক্ষাকারী’ গোষ্ঠীর সহিংসতার ঘটনাও সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, গরুর মাংস বহন বা বিক্রির অভিযোগে বহু মুসলিম ও হিন্দু ব্যবসায়ী হামলার শিকার হয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পশ্চিমবঙ্গজুড়ে গরুর মাংসের বিক্রি কমে গেছে। আতঙ্কে রয়েছেন মাংস বিক্রেতা, রেস্তোরাঁ মালিক ও রাস্তার খাবার ব্যবসায়ীরাও।

কলকাতার জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ The Burger Shop তাদের বহুল জনপ্রিয় বিফ বার্গার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি লিখেছে, “আমাদের বার্গারের কোনো ধর্ম নেই, কিন্তু রাজনীতির আছে।”

রেস্তোরাঁটির ব্যবস্থাপক উৎসা জানান, গরুর মাংস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে পুলিশি চাপে সাময়িকভাবে ব্যবসা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। নতুন সরবরাহকারী না পাওয়ায় বিফ বার্গার বিক্রি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

এদিকে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মাংস ব্যবসায়ী ৬৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ হাসিম বলেন, “৬০ বছর ধরে আমরা এ ব্যবসা করছি। এত বছর শান্তিতে ছিলাম। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতি পুরো বদলে গেছে।”

তার দাবি, সরবরাহকারীরা ভীত হয়ে পড়েছেন এবং ছোট হোটেলগুলোও আগের মতো গরুর মাংস কিনছে না। ফলে এখন দুপুরের মধ্যেই দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

ধুলাগড় হাটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিক্রি না হওয়া প্রতিটি গরুতে প্রায় ৫ হাজার রুপি পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে। এক মুসলিম ব্যবসায়ী জানান, ঈদের ব্যবসার আশায় মায়ের গয়না বন্ধক রেখে ১০ লাখ রুপি ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবার তার ২৫টি গরুর একটিও বিক্রি হয়নি।

তিনি বলেন, “গত বছর প্রায় ১০০টি গরু বিক্রি করেছিলাম। এবার কী হবে বুঝতে পারছি না।”

অন্যদিকে বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার দাবি করেছেন, আগে যেসব আইন কার্যকর করা হতো না, এখন সেগুলো শুধু কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ভারতের অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার বোর্ডের সাবেক সদস্য ও আইনজীবী Jayasimha Nagghehalli বলেন, ভারতে গরু জবাইবিষয়ক আইনগুলোকে প্রাণী সুরক্ষার বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হলেও বাস্তবে তা পরিচয়, বাণিজ্য ও গ্রামীণ জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তার মতে, পশ্চিমবঙ্গে যা ঘটছে, তা দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রবণতারই অংশ।