সৌদি আরবে একটি মার্কিন রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার বিমান ধ্বংস হয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এ ধরনের দাবি ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কয়েকদিন আগে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটলেও কোনো বিমান ধ্বংস হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মোট পাঁচটি বিমানের মধ্যে চারটির প্রায় কোনো ক্ষতি হয়নি এবং সেগুলো ইতোমধ্যে আবার সেবায় ফিরেছে। একটি বিমানের তুলনামূলক বেশি ক্ষতি হয়েছে, তবে সেটিও শিগগিরই উড্ডয়নের উপযোগী হয়ে উঠবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, “কোনো বিমান ধ্বংস হয়নি, এমনকি ধ্বংসের কাছাকাছিও ছিল না। অথচ কিছু সংবাদমাধ্যম ভুয়া শিরোনামে ভিন্ন দাবি করেছে।” এ সময় তিনি দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগ তোলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, এসব ‘ভয়াবহ’ প্রতিবেদন বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ইরানে বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন নিকট ভবিষ্যতে সম্ভব নয় বলে মূল্যায়ন করেছে একটি সূত্র। একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত ওই সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, তেহরানে শাসন পরিবর্তন ঘটাতে হলে হয় স্থল সেনা অভিযান চালাতে হবে, নয়তো বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ গণবিক্ষোভের পুনরুত্থান প্রয়োজন—যা বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য বলে মনে হচ্ছে না।
এ প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের সমাপ্তির জন্য ইসরায়েলকে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বলে জানিয়েছে মিডল ইস্ট আইয়ের।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের মূল্যায়নে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের প্রধান উদ্বেগ হলো যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং এর সম্ভাব্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব। অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করছে, সামরিক অভিযানে তারা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর আগে সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করেনি। এর ফলে তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে। প্রতিবেদনে অর্থনীতিবিদদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড পরিমাণ তেল উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও সংঘাত শুরুর পর দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে গ্যাসোলিনের দাম গ্যালনপ্রতি প্রায় ৬০ সেন্ট বেড়ে গেছে।



