সূচনা ফাউন্ডেশনের আয়কর নথি জব্দের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত ১০ বছরে ৯৯ লাখ ৪ হাজার ৫৩১ টাকা আয়কর জমা না দেওয়া এবং প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ওই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির নামে থাকা ১৪টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৯৩০ কোটি ৯৭ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫৯ টাকার লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ ও মহানগর দায়রা জজ আদালত সূচনা ফাউন্ডেশনের আয়কর নথি জব্দের অনুমতি দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির আয়কর নথির স্থায়ী ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র জব্দের আদেশ দেওয়া হয়।
১০ বছরে আয়কর ফাঁকির অভিযোগ
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত সূচনা ফাউন্ডেশন ৯৯ লাখ ৪ হাজার ৫৩১ টাকা আয়কর জমা দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কর জমার রেকর্ড তৈরি এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ওই অর্থ আয়কর ব্যয় হিসেবে দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে।
এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখার জন্য আয়কর নথি জব্দের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আদালতে আবেদন করে দুদক।
১৪ ব্যাংক হিসাবে ৯৩০ কোটি টাকার লেনদেন
দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে থাকা ১৪টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৫৩১ কোটি ৭৭ লাখ ২৩ হাজার ৯৩ টাকা জমা এবং ৪৬৫ কোটি ৩০ লাখ ৫০ হাজার ৮৬৬ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
এর মধ্যে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে পাওয়া ৩৩ কোটি ৫ লাখ টাকা বাদ দিলে জমার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৯৮ কোটি ৭২ লাখ ২৩ হাজার ৯৩ টাকা। একই অর্থ বাদ দেওয়ার পর উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৩২ কোটি ২৫ লাখ ৫০ হাজার ৮৬৬ টাকা।
দুদকের হিসাব অনুযায়ী, এই সমন্বয়ের পর ব্যাংক হিসাবগুলোতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৩০ কোটি ৯৭ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫৯ টাকা।
অর্থ স্থানান্তর ও হস্তান্তরের অভিযোগ
দুদকের আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ব্যাংক হিসাবগুলোতে লেনদেন হওয়া অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে দেখানো হয়েছে।
এসব ঘটনায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
২০২৫ সালে মামলা, তদন্তে নথি জব্দ
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ একটি মামলা করা হয়।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সূচনা ফাউন্ডেশনের টিআইএন নম্বর ৮৪১৩৬০৫৮৬০৯৭-এর বিপরীতে কর অঞ্চল-৬, ঢাকার সার্কেল-১১৫-এ সংরক্ষিত আয়কর নথি ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র জব্দের আবেদন করে দুদক।
ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আয়কর নথি জব্দের অনুমতি দেন। এসব নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে আয়কর জমা না দেওয়া, কথিত জালিয়াতি এবং ব্যাংক হিসাবে সংঘটিত লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে।
তবে দুদকের আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্তাধীন। আদালতে নথি জব্দের অনুমতি দেওয়া অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা প্রমাণের সমতুল্য নয়।



