১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ অপারেশনাল ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি।
এয়ারলাইন সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে ঢাকায় আসছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট BG-202–এ। ফ্লাইটটি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে (ঢাকা সময় রাত ১২টা ১৫ মিনিট) যাত্রা শুরু করবে। বোয়িং উড়োজাহাজে পরিচালিত এই ফ্লাইট বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। সেখানে এক ঘণ্টার গ্রাউন্ড টার্নঅ্যারাউন্ড শেষে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে ১১টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিমান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উচ্চপর্যায়ের যাত্রীর উপস্থিতির কারণে ফ্লাইটটির ওপর বাড়তি নজরদারি আরোপ করা হয়েছে। ফ্লাইট অপারেশন কন্ট্রোল, কেবিন সার্ভিস, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শেষ মুহূর্তে কেবিন ক্রু ডিপ্লয়মেন্টেও প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে।
এদিকে, ঢাকার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যাত্রী ব্যতীত দর্শনার্থী ও স্বজনদের টার্মিনালে প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক জানান, বিশেষ অপারেশনাল ও নিরাপত্তা বিবেচনায় যাত্রীসেবা, টার্মিনাল শৃঙ্খলা এবং এয়ারসাইড কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্ভাব্য যানজটের কথা বিবেচনায় রেখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ২৫ ডিসেম্বর ভ্রমণকারী দেশি-বিদেশি যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমানবন্দর এলাকা, এয়ারপোর্ট রোড, গুলশান সংযোগ সড়ক ও পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়েতে জনসমাগম বাড়তে পারে, যা সড়ক চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে।
এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যস্ত সকালের অ্যারাইভাল ব্যাংকের সঙ্গে এই ফ্লাইটের আগমন মিলিত হওয়ায় এয়ার ট্রাফিক সার্ভিস, অ্যাপ্রন ব্যবস্থাপনা, টার্মিনাল অপারেশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাপ্রন নিরাপত্তা, যাত্রী প্রক্রিয়াকরণ এবং নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, অবতরণের পর তারেক রহমান সড়কপথে পূর্বাচলে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং পরে গুলশানের দিকে যাবেন। যদিও পরবর্তী যাতায়াত বিমানবন্দরের অপারেশনাল আওতার বাইরে, তবুও অন্যান্য এয়ারলাইনের ফ্লাইটে বিঘ্ন এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
এভিয়েশন শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, ফ্লাইট BG-202–এর এই পরিচালনা ঢাকার বিমানবন্দরের সক্ষমতা ও প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হবে। উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তির আগমন সত্ত্বেও নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট নির্বিঘ্ন রাখা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।



