tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিশেখ হাসিনার স্বর্ণ উদ্ধার: ব্যাংকের ভল্ট–লকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা

শেখ হাসিনার স্বর্ণ উদ্ধার: ব্যাংকের ভল্ট–লকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা

সাজাপ্রাপ্ত ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে থাকা দুটি লকার থেকে ৮৩২ দশমিক ৫ ভরি সোনা উদ্ধার করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাংকে সোনা বা মূল্যবান সামগ্রী রাখা কতটা নিরাপদ এবং লকার–ভল্টের পার্থক্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

তদন্তের প্রেক্ষাপট

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে সিআইসি বিভিন্ন ব্যাংকে শেখ হাসিনার নামে থাকা লকার জব্দ করে।

লকার জব্দ ও উদ্ধার অভিযানের বিবরণ

২৫ নভেম্বর আদালতের অনুমতি নিয়ে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সিআইসি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) যৌথ দল অগ্রণী ব্যাংকের দুটি লকার (নম্বর ৭৫১ ও ৭৫৩) খুলে সোনার গহনা জব্দ করে। এটাই ছিল আদালতের অনুমতিতে শেখ হাসিনার ব্যাংক লকার প্রথমবার খোলার ঘটনা।

এর আগে, ১০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সেনা কল্যাণ ভবনে অবস্থিত পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখায় অভিযান চালিয়ে শেখ হাসিনার নামে থাকা ১২৮ নম্বর লকারটি জব্দ করে সিআইসি। ওই শাখায় শেখ হাসিনার দুইটি ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়—একটিতে ১২ লাখ টাকার এফডিআর এবং অন্যটিতে ৪৪ লাখ টাকা পাওয়া যায়, যা পরে তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

১৭ সেপ্টেম্বর দিলকুশায় অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় আরও দুটি লকার শনাক্ত করার পর আদালতের নির্দেশে তা খোলা হলে ৮৩২ দশমিক ৫ ভরি সোনা উদ্ধার করা হয়।

লকার ও ভল্ট নিয়ে ব্যাখ্যা

ঘটনার পর ব্যাংকিং খাতে লকারের নিরাপত্তা এবং লকার–ভল্টের পার্থক্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা জানান—

  • ভল্ট ব্যাংকের নিজস্ব মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
  • লকার গ্রাহকদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য।
  • লকার পরিচালনার নিয়মকানুন ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারিত।
  • ব্যাংকগুলো নিরাপত্তার স্বার্থে নিজেদের কিছু অতিরিক্ত বিধানও যুক্ত করে থাকে।

বিভিন্ন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, গ্রাহক বা তার অনুমোদিত প্রতিনিধি ছাড়া লকার খুলতে সাধারণত ব্যাংক অধিকারী নয়। তবে আদালতের নির্দেশে লকার জব্দ বা খোলার একাধিক দৃষ্টান্ত রয়েছে।