বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-এ পাঠানো এক আইনি চিঠিতে তার বিরুদ্ধে পরিচালিত বিচার প্রক্রিয়া ও রায়কে অবৈধ ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ (সোমবার) লন্ডনভিত্তিক প্রখ্যাত আইন প্রতিষ্ঠান কিংসলি ন্যাপলি এলএলপি ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে এই চিঠি পাঠায়। তবে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অফিস বা রেজিস্ট্রার কার্যালয়—কোনো পক্ষই চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
বুধবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ধরনের কোনো চিঠি সরাসরি বা ই-মেইলে তাদের কাছে পৌঁছায়নি। একইভাবে, ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলামও চিঠি পাঠানোর বিষয়টি অস্বীকার করেন।
প্রায় ১০ পৃষ্ঠার ওই চিঠিতে শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে বলা হয়, তার অনুপস্থিতিতে বিচার করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা ন্যায্য বিচার ও আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ, অভিযোগ সম্পর্কে পূর্ণ অবহিতকরণ এবং নিজের পছন্দের আইনজীবী পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
এছাড়া চিঠিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিচারকদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং বিচার চলাকালে পক্ষপাতমূলক মন্তব্যের মাধ্যমে বিচারিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে প্রধান কৌঁসুলির বিরোধী রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং বিচার চলাকালে রাজনৈতিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, আইসিটির এখতিয়ার বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ঘটনাবলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা মূল আইনের উদ্দেশ্যের বাইরে এবং ভূতাপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের শামিল। এসব অভিযোগ সাধারণ ফৌজদারি আদালতে বিচার হওয়া উচিত ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে চিঠিতে বলা হয়, এ বিচার প্রক্রিয়ায় ন্যায্য বিচার, সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই এবং প্রতিরক্ষার অধিকারসহ একাধিক মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এমনকি এই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে তা ‘সামারি এক্সিকিউশন’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
চিঠিতে আইসিটির রায় বাতিল, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করা এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে বিচার পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়। এ বিষয়ে ১৪ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের প্রতিক্রিয়া চাওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ফোরামে যাওয়ার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।



