লিবিয়ায় বিভিন্ন কারণে বিপদে পড়া এবং স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী আরও ৩৪০ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ফ্লাই ওইয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
এ নিয়ে চলতি বছরে লিবিয়ার বন্দিশালা ও দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থানরত মোট ২ হাজার ৩৩৮ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় এসব বাংলাদেশিকে দেশে ফেরানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফেরত আসা বেশির ভাগ বাংলাদেশি মানব পাচারকারীদের প্রলোভনে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। পরে তাদের অনেকেই অপহরণ, নির্যাতন ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসিত নাগরিকদের যাতায়াত খরচ, প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জনসচেতনতা বাড়াতে লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশিদের নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ৫ আগস্ট লিবিয়া সরকারের ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণ থেকে ত্রিপোলির সরকারি অভ্যর্থনা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। এ সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ প্রত্যাবাসনপ্রত্যাশী নাগরিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের বিদায় জানান এবং তাদের পরিস্থিতি ও অভিজ্ঞতার খোঁজ নেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ দূতাবাস দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।



