বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটি দেশের অর্থনৈতিক শক্তিমত্তার গুরুত্বপূর্ণ সূচক। বাংলাদেশে গত কয়েক বছর রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমে এলেও বর্তমানে কিছুটা স্থিতিশীল ও স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে।
বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.২৭ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে তা কমে দাঁড়ায় ২৬.৩৯ বিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী নিট ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলার, যা দিয়ে চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব—যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১৩ সালে যেখানে রিজার্ভ ছিল ১৫.৩২ বিলিয়ন ডলার, তা বাড়তে বাড়তে ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট সর্বোচ্চ ৪৮.০৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে পরবর্তী বছর থেকে ডলার সংকটের কারণে রিজার্ভে ধারাবাহিক পতন শুরু হয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো হেলাল আহমেদ জনি জানান, বর্তমানে ব্যবসায়ীরা চাহিদা অনুযায়ী এলসি খুলতে পারছেন। মুদ্রাবিনিময় হার বাজারচালিত হলেও তা মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত।
অর্থবছরভিত্তিক হিসাবেও রিজার্ভের উত্থান-পতন স্পষ্ট:
- ২০১৩-১৪ অর্থবছরে: ২১.৫০ বিলিয়ন ডলার
- ২০২০-২১ অর্থবছরে: সর্বোচ্চ ৪৬.৩৯ বিলিয়ন ডলার
- ২০২২-২৩ অর্থবছরে: কমে ৩১ বিলিয়ন ডলার
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে: ৩১.৬৮ বিলিয়ন ডলার
হেলাল আহমেদ জনির মতে, রিজার্ভ অর্থনীতির নানা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—বিশেষ করে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষায়। তিনি বলেন, “বিগত কয়েক বছরের পতন থেমে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং আশাব্যঞ্জক।”



