রাজধানীর বাজারে কয়েক মাস ধরেই সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী। বর্ষায় চাষাবাদে বিঘ্ন ও সরবরাহে সমস্যা থাকায় দাম কমার বদলে আরও বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, অনেক এলাকায় এখনো চাষ শুরু হয়নি বা শুরু হলেও ফলন বাজারে আসতে সময় লাগবে। ফলে কমপক্ষে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সবজির দাম স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।
বর্তমানে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ৩০-৪০ টাকা বেশি। পটোল ৭০-৮০, বরবটি ৮০-১১০, করলা ৮০-১০০, টমেটো ১৩০, গাজর ১৪০ এবং শসা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে। শুধু পেঁপে ছাড়া সব সবজির দামই এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকার ঘরে।
কাঁচা মরিচের দাম গত সপ্তাহে ৩৫০ টাকা উঠলেও বর্তমানে কিছুটা কমে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়।
একই সঙ্গে ডাল, আটা, তেলসহ নিত্যপণ্যের দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। আমদানি করা ছোট দানার মসুর ডাল এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজিতে, যা এক মাস আগেও ছিল ১৪০ টাকা। দেশি ডালের দামও ১৩০ থেকে বেড়ে এখন ১৪৬-১৫০ টাকায় পৌঁছেছে। মাঝারি ও মোটা দানার ডালের দামও কেজিপ্রতি ৫-১০ টাকা বেড়েছে।
আটার দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা। ২ কেজির প্যাকেট এখন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১০০ টাকা।
খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭২-১৮০ টাকা লিটারে। পাম তেল ১৫৩-১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি।
ফার্মের ডিম ও মুরগির দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। একটি ডজন ডিমের দাম ১৪০ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৫০ টাকা। সোনালি জাতের ফার্ম মুরগির কেজি ৩৪০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৩১০-৩২০ টাকা। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম স্থিতিশীল রয়েছে—১৭০-১৮০ টাকায়।
ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, মৌসুমি অজুহাতে পণ্যের দামে লাগামহীন বাড়তি চাপ পড়ছে তাদের উপর। আগে যেখানে এক হাজার টাকায় সপ্তাহের বাজার হতো, এখন দেড় হাজার টাকাতেও তা মেলে না।



