প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর তার জীবনের শেষ সময়ের একটি অস্বস্তিকর ঘটনা প্রকাশ্যে এনেছেন ছোট ভাই চার্লস স্পেন্সার। ডায়ানার মৃত্যুর কিছুদিন আগে মোহাম্মদ আল ফায়েদের আচরণ নিয়ে তিনি ভাইয়ের কাছে যে অভিযোগ করেছিলেন, সেটিই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
চার্লস স্পেন্সারের বর্ণনা অনুযায়ী, সাবেক স্বামী প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর জীবনের নানা ব্যক্তিগত টানাপোড়েনের মধ্যেই এমন একটি ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন ডায়ানা। সে সময় আল ফায়েদের ছেলে দোদির সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
চার্লস স্পেন্সার জানান, ডায়ানা অত্যন্ত বিরক্তি ও ঘৃণার সঙ্গে তাকে বলেছিলেন, একপর্যায়ে মোহাম্মদ আল ফায়েদ তার কাছে এগিয়ে এসে পিঠে হাত রাখেন। এরপর তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ ও অশোভন মন্তব্য করেন—মিশরে শ্বশুরের সুযোগই নাকি সবার আগে পাওয়া উচিত।
স্পেন্সারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ডায়ানাকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছিল। তিনি ব্যক্তিগতভাবে আল ফায়েদকে পছন্দ করতেন না বলেও উল্লেখ করেছেন তার ভাই।
হ্যারডস ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সাবেক মালিক মোহাম্মদ আল ফায়েদ ২০২৩ সালে ৯৪ বছর বয়সে মারা যান। তার বিরুদ্ধে শারীরিক হেনস্থা ও যৌন নিপীড়নের ৪০০টির বেশি অভিযোগ রয়েছে। ১৯৭৭ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ওঠা এসব অভিযোগ নিয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশ তদন্ত করছে।
আল ফায়েদের সঙ্গে ডায়ানার সম্পর্কের এই নেতিবাচক দিকের বিপরীত চিত্রও দেখা যায় তার মৃত্যুর পর। ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট প্যারিসের একটি টানেলে সড়ক দুর্ঘটনায় দোদি ও ডায়ানা নিহত হওয়ার পর আল ফায়েদ হ্যারডসে তাদের স্মরণে একটি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য স্থাপন করেন। এর নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ইনোসেন্ট ভিকটিমস’।
বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে ডায়ানা ‘পিপলস প্রিন্সেস’ নামে পরিচিতি পান। প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারির মা হিসেবে যেমন তিনি ব্রিটিশ রাজপরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন, তেমনি মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্যও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছিলেন।
ডায়ানার মৃত্যুর বহু বছর পর ভাই চার্লস স্পেন্সারের এই বক্তব্য তার জীবনের শেষ সময়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আরেকটি দিক সামনে আনল।
সূত্র: জিও নিউজ



