ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের ই-রিটার্ন সেবা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে অধিকাংশ স্বাভাবিক ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুবিধা পাচ্ছেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে এনবিআর।
সংস্থাটি জানিয়েছে, করসেবা সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করতেই ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের ই-রিটার্ন সেবা চালু করা হয়েছে। ২০২১ সালে অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থা চালুর পর থেকে এটি করদাতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫-২০২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা ই-রিটার্নের মাধ্যমে সফলভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন।
বিশেষ আদেশের মাধ্যমে স্বাভাবিক ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হলেও কয়েকটি ক্ষেত্রে পেপার রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ করদাতা, প্রয়োজনীয় সনদসহ শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার প্রতিনিধিরা এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক।
এ ছাড়া ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন নিয়ে পেপার রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।
এনবিআরের পোর্টালের মাধ্যমে ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করা যাবে। সঠিক তথ্য দিয়ে রিটার্ন দাখিলের পর করদাতারা তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন।
ই-রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে সরকারি ছুটির দিন ছাড়া অফিস চলাকালে এনবিআরের কল সেন্টার (০৯৬৪৩৭১৭১৭১) এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সহায়তা পাওয়া যাবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে, ২০২৬-২০২৭ করবর্ষ থেকে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা নিট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ প্রণোদনা পাবেন। তবে এই প্রণোদনার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা।



