রাজধানীর খুচরা বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে, তবে চাল ও কিছু সবজির দাম কিছুটা কমেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে চাল আমদানি বাড়ায় এর প্রভাব বাজারে পড়েছে। যদিও সবজির দাম এখনও স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে আসেনি।
তেলের বাজারে অস্থিরতা
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খোলা সয়াবিন ও সুপার পাম অয়েলের দাম লিটারে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭২ টাকা, যা চার দিন আগেও ছিল ১৬৯ টাকা। একই সময়ে সুপার পাম অয়েলের দাম ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৫–১৬০ টাকায়।
ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো কমিশন কমিয়ে দেওয়ায় এই দাম বাড়ছে। যদিও সরকার সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
চালের দাম কিছুটা নিম্নমুখী
বাজারে সরু নাজিরশাইল ও মোটা জাতের চালের দাম কমেছে। বর্তমানে নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৮৪ থেকে ৮৬ টাকায়, যা আগে ছিল ৯০–৯২ টাকা। মোটা জাতের চাল যেমন পায়জাম ও স্বর্ণা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৬০ টাকা কেজি, যা কেজিপ্রতি ৪–৫ টাকা কম।
তবে মিনিকেট চালের দামে পরিবর্তন নেই; এখনও এটি ৭৮ থেকে ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সেগুনবাগিচা বাজারে ‘সজিব রাইস এজেন্সি’র মালিক সালমান হোসেন বলেন, “ভারত থেকে প্রচুর চাল আমদানি হচ্ছে, তাই দাম কমছে। তবে দেশি মিনিকেটের দাম আগের মতোই রয়েছে।”
সবজির বাজারে সামান্য স্বস্তি
রামপুরা ও খিলগাঁওয়ের বাজারে দেখা গেছে, কিছু সবজির দাম কমলেও তা এখনও সাধারণ ভোক্তার নাগালের বাইরে। পটল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ৬০–৮০ টাকা, করলা, বেগুন, বরবটি, চিচিঙা বিক্রি হচ্ছে ৮০–১০০ টাকায়। তবে পেঁপে ৪০ টাকা ও আলু ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা তুলনামূলকভাবে সস্তা।
গত কয়েক সপ্তাহে এসব সবজির দাম ৮০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল, সেক্ষেত্রে বর্তমান দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
মুরগি ও ডিমের দাম অপরিবর্তিত
বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০–১৮০ টাকা কেজি দরে, আর সোনালি জাতের মুরগির দাম ৩০০–৩২০ টাকা। ডিমের দামও স্থিতিশীল—প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।



