দলীয় মতানৈক্যের জেরে ছয় বছর পর আবারও যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে সরকার শাটডাউন। সময়মতো বাজেট পাস না হওয়ায় ১ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ফেডারেল সরকারের বহু দপ্তরের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছে বিবিসি।
কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে বাজেট বিল নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার ফলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শেষ মুহূর্তের অস্থায়ী অর্থায়ন বিলও পাস না হওয়ায় অধিকাংশ ফেডারেল সংস্থা আইন অনুযায়ী তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে।
এই শাটডাউনের প্রভাবে বিপুলসংখ্যক সরকারি কর্মচারী বেতন ছাড়া ছুটিতে গেছেন, আবার কেউ কেউ বেতন ছাড়াই জরুরি সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে পাসপোর্ট অফিস, গবেষণা কার্যক্রম, জাতীয় উদ্যান, ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ বড় পরিসরে সরকার শাটডাউন হয়েছিল ২০১৮-২০১৯ সালে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে। তখন মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে বাজেট বরাদ্দ নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে শাটডাউনটি টানা ৩৫ দিন স্থায়ী হয়েছিল, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ।
বর্তমান শাটডাউনের সময় জাতীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত রক্ষা, জরুরি চিকিৎসা ও আকাশপথ নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো চালু থাকলেও অন্যান্য অনেক সরকারি বিভাগকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ ঘোষণা করে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে অর্থনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত নানা কার্যক্রমও বিঘ্নিত হচ্ছে।
প্রতিবছর ১ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থবছর শুরু হয়, যার আগে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাজেট পাস করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এবার কংগ্রেসের দুই কক্ষ— রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র মতানৈক্যের কারণে সময়মতো বাজেট পাস সম্ভব হয়নি। এমনকি কোনো অন্তর্বর্তীকালীন অর্থায়নেও সম্মত হতে পারেনি তারা।



