ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন দলের অধিনায়ক ও তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে প্যারাগুয়ের এক সিনেটরের বর্ণবাদী মন্তব্য এবং তার জবাবে এমবাপ্পের তীব্র প্রতিক্রিয়া।
স্পেনের বিপক্ষে প্যারাগুয়ের বিদায়ের পর দেশটির সিনেটর সেলেস্তে আমারিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এমবাপ্পেকে উদ্দেশ্য করে একাধিক বর্ণবাদী ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন।
পোস্টে তিনি এমবাপ্পেকে ‘ক্যামেরুনীয় বংশোদ্ভূত, নিজেকে মরিয়া হয়ে ফরাসি হিসেবে পরিচয় দিতে চাওয়া ব্যক্তি’ বলে আখ্যা দেন। পাশাপাশি তাকে ‘বর্বর’ বলে কটাক্ষ করেন এবং দাবি করেন, প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের উচিত ছিল তাকে চড় মারা।
এ ধরনের মন্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান এমবাপ্পে।
তিনি লেখেন, “ম্যাডাম সেলেস্তে আমারিয়া, আপনি একজন ঘৃণ্য নারী এবং আপনার পদে থাকার কোনো যোগ্যতা নেই। আপনি প্যারাগুয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন না। এই বিশ্বকাপে যে দেশ আবেগ, সম্মান ও লড়াইয়ের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, আপনি সেই দেশের ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণ্ন করেছেন।”
এমবাপ্পে আরও বলেন, “আপনার দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও প্রকাশ্য বর্ণবাদ বিশ্বের দৃষ্টি সরিয়ে দিয়েছে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের ঐতিহাসিক সাফল্য থেকে। এখন আলোচনায় উঠে এসেছেন একজন অযোগ্য রাজনীতিক, যিনি নিজের দেশের সবচেয়ে নেতিবাচক চিত্রটিই তুলে ধরেছেন।”
সবশেষে তিনি বলেন, “আপনার মতো মানুষদের ঘৃণা ও বর্ণবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার স্বাধীনতাকে আমি কখনোই মেনে নেব না।”
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্যারাগুয়ের সিনেটর সেলেস্তে আমারিয়ার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)।
এক বিবৃতিতে এফএফএফ জানায়, এ ধরনের মন্তব্য জঘন্য, অগ্রহণযোগ্য এবং আইনত দণ্ডনীয়। ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন, তাই তাদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী মন্তব্য পুরো ফ্রান্সকেই অপমান করার শামিল। বিষয়টি আইনি পদক্ষেপের জন্য সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ে পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আগামী ১০ জুলাই মরক্কোর মুখোমুখি হবে ফ্রান্স।



