tanaka

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা

দেশের বাজারে আবারও কমেছে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ...
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিপেঁয়াজ নিয়ে ভারতের ‘কান্না’, দেশের কৃষকের ‘হাসি’

পেঁয়াজ নিয়ে ভারতের ‘কান্না’, দেশের কৃষকের ‘হাসি’

পেঁয়াজ নিয়ে যখন ভারতে ‘কান্নাকাটি’, তখন বাংলাদেশের কৃষকের মুখে হাসি। এ মৌসুমে পেঁয়াজ উৎপাদনে বাজিমাত করেছে বাংলাদেশ। স্থানীয় উৎপাদনে চাহিদা মিটে যাওয়ায় মৌসুম প্রায় শেষ হতে চললেও আমদানির প্রয়োজন পড়েনি বললেই চলে। ভালো দাম পেয়ে কৃষকরা আরও বেশি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন ভারতীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

ভারতের গণমাধ্যমগুলোতে দেখা যাচ্ছে—দাম না পেয়ে রাস্তা ভরে পেঁয়াজ ফেলে রাখা, বস্তায় পচে যাওয়া পণ্য আর অসহায় কৃষকের কান্নার খবর। বিপরীতে, বাংলাদেশি কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসি। পেঁয়াজ রপ্তানিতে বাংলাদেশের ওপর দীর্ঘদিন নির্ভরশীল ভারত এবার বড় সংকটে। আর দেশের মানুষও খুশি—দেশি পেঁয়াজ খেতে পারছেন। বর্তমানে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে মানভেদে কেজিপ্রতি ৯৫ থেকে ১২০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, বৃষ্টির কারণে এ মৌসুমে পেঁয়াজ চাষ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে সব ঠিক থাকলে আগামী ১০ দিনের মধ্যেই বাজারে উঠবে নতুন দেশি পেঁয়াজ। দাম কিছুটা বেশি হলেও ভোক্তাদের বক্তব্য—দেশের কৃষক বাঁচুক, উৎপাদন বাড়ুক। তাদের মতে, এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশ পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে এবং আমদানির প্রয়োজন কমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

তথ্য মতে, জলবায়ুর কারণে বাংলাদেশে সারা বছরই কোনো না কোনো মৌসুমে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। তিন ধাপে—খরিফ-২, রবি ও খরিফ-১ মৌসুমে পেঁয়াজ ওঠে। এর মধ্যে খরিফ-২ মৌসুমের ফলন নভেম্বর–ডিসেম্বরে বাজারে আসে। এই ‘মুড়িকাটা’ পেঁয়াজ এক থেকে দুই মাস সংরক্ষণযোগ্য এবং আগামী এক–দুই সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে নামবে।

সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় রবি মৌসুমে, যা মোট উৎপাদনের ৬৫–৭০ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ওঠা এসব পেঁয়াজের মান ভালো এবং তিন থেকে পাঁচ মাস জমিয়ে রাখা যায়। খরিফ-১ মৌসুমের পেঁয়াজ জুন–জুলাইয়ে ওঠে, তবে উৎপাদন তুলনামূলকভাবে কম।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী—
২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯৯ একর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, উৎপাদন ৩২ লাখ ২১ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন।
২০২৩–২৪ অর্থবছরে আবাদ হয়েছিল ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫২৭ একর জমিতে, উৎপাদন ২৯ লাখ ১৭ হাজার ৩৫৪ মেট্রিক টন।
২০২২–২৩ অর্থবছরে ৫ লাখ ২ হাজার ৯০৯ একর জমিতে উৎপাদন হয়েছিল ২৫ লাখ ৪৬ হাজার ৯৯৪ মেট্রিক টন।

পাবনার কৃষক মো. সিদ্দিক আলী জানান, “গত মৌসুমে ২০০ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। শুরুতে মণপ্রতি আড়াই হাজার টাকা পেলেও শেষে চার হাজার টাকা পর্যন্ত দাম পেয়েছি। এবার বাজার ভালো থাকায় দাম আরও বেশি পেয়েছি। সামনে আরও বেশি জমিতে চাষ করতে চাই।”

এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে খবর আসছে—রপ্তানি বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের হতাশা চরমে। কোথাও মাত্র কেজি দু’ রুপিতেই বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। অনেকে প্রতিবাদ হিসেবে রাস্তায় পেঁয়াজ ফেলে দিচ্ছেন। ইকোনমিক টাইমস এবং ইটিভি এমন তথ্য প্রকাশ করেছে।