পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ডেরা ইসমাইল খান শহরের উপকণ্ঠে রাত্তা কুলাচি এলাকায় একটি পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সশস্ত্র হামলায় অন্তত সাতজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার রাতে চালানো এই সমন্বিত হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে ভারী অস্ত্র ও আত্মঘাতী বিস্ফোরক। হামলাকারীরা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান ফটকে একটি বিস্ফোরক বোঝাই ট্রাকে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কম্পাউন্ডে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় কেন্দ্রে প্রায় ২০০ জন পুলিশ সদস্য অবস্থান করছিলেন।
ডেরা ইসমাইল খানের পুলিশ প্রধান সাজ্জাদ আহমেদ জানিয়েছেন, পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে গুলিবিনিময় চলে। এতে সাতজন পুলিশ সদস্য নিহত এবং অন্তত ১৩ জন আহত হন। পাল্টা অভিযানে ছয়জন হামলাকারী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।
পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ঢুকে গ্রেনেড ছুঁড়ে মারার পাশাপাশি ব্যাপক গুলি চালায়। তাদের লক্ষ্য ছিল ব্যাপক প্রাণহানি ঘটানো।
পরে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী কম্পাউন্ড থেকে ছয় হামলাকারীর মরদেহ, আত্মঘাতী ভেস্ট, বিস্ফোরক, আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি নিহত পুলিশ সদস্যদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন। সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) শুরুতে হামলার দায় স্বীকার করলেও পরে দ্বিতীয় বিবৃতিতে তাদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে।
পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আহমেদ শরীফ চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২০২১ সাল থেকে দেশটিতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে।
তিনি আরও বলেন, চলতি বছরে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে ১০ হাজারেরও বেশি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, যেখানে ৯৭০ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ৩১১ জন সেনাসদস্য ও ৭৩ জন পুলিশ কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন।
সূত্র: এবিসি নিউজ



