মাঠে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলের বড় পরাজয়, এর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নাইটক্লাবের একটি ছবি—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ছবিতে জাতীয় দলের দুই ফুটবলার সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানা জুনিয়রকে নাইট ক্লাবে দেখা যায়। তবে দুই খেলোয়াড়ের দাবি, ছবিটি পুরোনো এবং ইন্দোনেশিয়া ম্যাচের পরের নয়।
বিষয়টি নিয়ে এবার তদন্তের কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। রোববার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারের সভাকক্ষে এশিয়ান গেমসে পদকজয়ী উশু খেলোয়াড় জিন্নাত আক্তারকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নাইটক্লাবে যাওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা ক্রীড়া ভাতার আওতায় থাকলে সেই ভাতাও বাতিল করা হতে পারে।
জাতীয় দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের প্রসঙ্গ টেনে আমিনুল হক বলেন, ‘ফুটবলের ফলাফল এমনিতেই খুব খারাপ হয়েছে। তার ওপর এই অভিযোগ। আমি খুব হতাশ হয়েছি।’
তবে বিষয়টি শুধু দুই ফুটবলারকে ঘিরে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতীয় দলের ম্যানেজমেন্টের ভূমিকাও খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন, ওই সময়ে দলের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা কোথায় ছিলেন এবং তাদের তদারকির ভূমিকা কী ছিল।
তিনি বলেন, ‘কোথায় ছিল তার ম্যানেজমেন্ট। কারা দায়িত্বে ছিল। যারা নাইট ক্লাবে গিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ডেফিনেটলি ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশান হবে।’
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্রীড়া ভাতার আওতায় থাকা কেউ জড়িত থাকলে তা বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘যারা নাইট ক্লাবে গিয়েছেন এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা যদি ক্রীড়া ভাতার আওতায় থাকেন, তাহলে তা বাতিল করা হবে।’
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিটিই যে ইন্দোনেশিয়া ম্যাচের পরের—এমনটা এখনো নিশ্চিত নয়। ছবি কখন, কোথায় এবং কোন পরিস্থিতিতে তোলা হয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। দুই ফুটবলারও ইতোমধ্যে দাবি করেছেন, ছবিটি পুরোনো।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ম্যাচের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে খেলোয়াড়দের ঘুম, খাবার, বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে জাতীয় দলের কোনো খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগকে সত্য হিসেবে ধরে নেওয়ার আগে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করাও জরুরি।
ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৯-২ গোলের পরাজয়ের পর জাতীয় ফুটবলকে ঘিরে এমনিতেই আলোচনা চলছে। এর মধ্যে নাইটক্লাবের ছবি নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এবং দলের ম্যানেজমেন্টের ভূমিকা এখন তদন্তের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



