tanaka

হাইকোর্টে জামিন পেলেন বিদিশা সিদ্দিক

রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। রবিবার (৬...
প্রচ্ছদসারাদেশনতুন পানিতে প্রাণ ফিরেছে পদ্মায়, নদীপাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড়

নতুন পানিতে প্রাণ ফিরেছে পদ্মায়, নদীপাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড়

শরতের শুরুতেই উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নতুন পানিতে ভরেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের পদ্মা নদী। শুকিয়ে যাওয়া বালুচর ছাপিয়ে এখন নদীজুড়ে থইথই পানি আর রুপালি ঢেউ। পদ্মার নতুন এই রূপে প্রাণ ফিরেছে নদীকেন্দ্রিক জনজীবনেও। ছুটির দিনগুলোতে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে তীরবর্তী এলাকায় ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।

শুক্রবার (৪ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ফিলিপনগর আবেদের ঘাট এলাকার পদ্মাপাড় যেন এক টুকরো বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও আশপাশের অঞ্চল থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে নদীর পাড়ে আসতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। সূর্যাস্তের সময় বিস্তীর্ণ জলরাশি আর লালচে আকাশের মায়াবী দৃশ্য উপভোগ করেন তারা।

পদ্মায় পানি বাড়ায় দীর্ঘদিন পর পুরোদমে শুরু হয়েছে নৌকা চলাচল। ঘাটগুলো আবারও মুখর হয়ে উঠেছে মাঝিদের হাঁকডাকে। দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ এখন ইঞ্জিনচালিত নৌকায় নদীর বুক চিরে ঘুরে বেড়ানো। তরুণদের কেউ দল বেঁধে নৌকায় আনন্দ-উল্লাস করছেন, আবার কেউ নদীর শান্ত ঢেউয়ের দোলায় খুঁজে নিচ্ছেন প্রশান্তি।

নদীতে নতুন পানি আসায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় জেলেদের মধ্যেও। তারা জাল ফেলে ধরছেন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। বিভিন্ন ঘাটে বসেছে অস্থায়ী মাছের বাজার। নদী থেকে ধরে আনা তাজা মাছ কিনতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরাও। চোখের সামনে নদী থেকে তুলে আনা জীবন্ত মাছ দরদাম করে কেনার মধ্যেও আলাদা আনন্দ খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদীপাড়ের এসব অস্থায়ী মাছের হাটে ২০০ টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন প্রজাতি ও আকারের মাছ বিক্রি হচ্ছে।

নদীপাড়ে ঘুরতে আসা শাহিন হোসেন বলেন, ‘ঘুরতে এসে নদী থেকে ধরা টাটকা মাছ দেখে লোভ সামলাতে পারিনি। তাই মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছি।’

দর্শনার্থীদের সমাগমকে কেন্দ্র করে নদীর বাঁধ ও তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী গ্রামীণ বাজারও। সারি সারি দোকানে বিক্রি হচ্ছে গরম জিলাপি, চটপটি, ফুচকা, পেঁয়াজু, মরিচ ও বেগুন ভর্তা দিয়ে তৈরি হাতের রুটি এবং হালিম। শিশুদের আকৃষ্ট করতে রয়েছে খেলনা, বেলুন ও বাঁশির দোকান। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দোকানগুলোর আলো আর মানুষের কোলাহলে নদীপাড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পদ্মার সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দুজনই সরকারি চাকরি করি। কর্মব্যস্ততার কারণে নিজেদের জন্য তেমন সময় পাওয়া যায় না। সাপ্তাহিক ছুটিতে তাই একটু সময় বের করে নদীর পাড়ে ঘুরতে এসেছি। এখানকার পরিবেশ খুব ভালো লাগছে।’

জামাল হোসেন নামের এক জেলে বলেন, ‘বিকেলের দিকে নদীর পাড়ে মানুষের সমাগম বেশি হয়। শুক্রবারে আরও বেশি মানুষ আসে। অনেকে নৌকায় ঘোরেন, আবার নদীর মাছও কিনে নিয়ে যান। মানুষ আসায় আমাদেরও বেচাকেনা ভালো হয়।’

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানি কমে গেলে নদীতীরবর্তী এলাকা অনেকটাই নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে। তবে নতুন পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় পুরো পরিবেশ। নদীর পাড়ে বাড়ে মানুষের আনাগোনা, জমে ওঠে নৌকা চলাচল, মাছ ধরা ও কেনাবেচা। এতে মাঝি, জেলে ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়-রোজগারেও স্বস্তি ফিরে আসে।

সরকারি ছুটির দিন ছাড়াও প্রতি সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার পদ্মার সৌন্দর্য দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গোধূলিলগ্নে দৌলতপুরের পদ্মাপাড়ে দেখা গেছে মানুষ ও প্রকৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন। নতুন পানিতে প্রাণ ফিরে পাওয়া পদ্মা যেন কর্মব্যস্ত মানুষের কাছে হয়ে উঠেছে স্বস্তি, আনন্দ ও বিনোদনের এক অনন্য ঠিকানা।