অক্টোবরের শেষ দিকে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ভারতের পক্ষ থেকে গতকাল তার নিয়োগের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের তৃতীয় অথবা চতুর্থ সপ্তাহে সুবিধাজনক সময়ে নয়াদিল্লিতে গিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন আসাদ আলম সিয়াম। দিল্লির একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর মেয়াদ আগামী ১০ অক্টোবর শেষ হচ্ছে। এরপর নতুন হাইকমিশনার হিসেবে সিয়ামের দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন আসাদ আলম সিয়াম। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। এরপর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা করবেন তিনি।
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের জন্য গত জুলাইয়ে ভারতের কাছে এগ্রিমো চেয়েছিল বাংলাদেশ। প্রায় তিন মাস পর তার নিয়োগে সম্মতি দিল ভারত। ভিয়েনা কনভেনশনের বিধান অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্রই অন্য রাষ্ট্রের প্রস্তাবিত কূটনীতিকের এগ্রিমো অনুমোদনে বাধ্য নয়। একইভাবে, কোনো কূটনীতিককে গ্রহণের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের সম্মতি অপরিহার্য।
পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে ১৫ মাস
২০২৫ সালের ২০ জুন পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব নেন আসাদ আলম সিয়াম। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেওয়া সিয়ামের কূটনৈতিক ক্যারিয়ার প্রায় তিন দশকের।
পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ পর্যায় এবং বর্তমান সরকারের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ আমলার দায়িত্বে ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত থাকাকালে গায়ানায় বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত এবং বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
এর আগে ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অস্ট্রিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন সিয়াম। একই সময়ে হাঙ্গেরি ও স্লোভেনিয়ায় অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত এবং ভিয়েনায় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও ওপেক ফান্ডে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন তিনি। ওই সময়ে পালাউয়েও অনাবাসিক রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন সিয়াম।
ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনুবিভাগের মহাপরিচালক, প্রধান প্রটোকল কর্মকর্তা, মিশনগুলোর মহাপরিদর্শক এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিবের দপ্তরেও পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।
বিদেশি মিশনগুলোতে জাকার্তা, ব্যাংকক ও ম্যানচেস্টারে দায়িত্ব পালন করেছেন সিয়াম। ইতালির মিলানে বাংলাদেশের প্রথম কনসাল জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
জেনেভায় যাচ্ছেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ
আসাদ আলম সিয়ামের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর দায়িত্বেরও অবসান ঘটবে। ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাকে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই বছরের ২৯ মে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
কূটনৈতিক সূত্রের মতে, নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব পালনকালে রিয়াজ হামিদুল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লিতে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
দায়িত্ব শেষে জেনেভায় জাতিসংঘ দপ্তরে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। ফলে নয়াদিল্লিতে প্রায় দেড় বছরের দায়িত্ব শেষে নতুন কূটনৈতিক দায়িত্বে জেনেভায় পাড়ি জমাবেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ।



