tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদখেলাদাবি মানলে মাঠে নামবে ক্রিকেটাররা

দাবি মানলে মাঠে নামবে ক্রিকেটাররা

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ঢাকা পর্ব শুরু হওয়ার কথা ছিল আজ। তবে মাঠে খেলা গড়ানোর আগেই সৃষ্টি হয়েছে বড় অনিশ্চয়তা। ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) বিসিবির পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করায় অচলাবস্থায় পড়েছে টুর্নামেন্ট। দাবি পূরণ না হওয়ায় আজ একটি ম্যাচও মাঠে গড়ায়নি।

এই সংকট কীভাবে কাটতে পারে, তা আজ সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেছে কোয়াব। সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জানান, এম নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ করলেই ক্রিকেটাররা বয়কট প্রত্যাহার করবেন।

গতকাল থেকেই এই অচলাবস্থার সূচনা। বিশ্বকাপে না খেললে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন এম নাজমুল ইসলাম। উল্টো প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটারদের পেছনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, তার প্রতিদান তারা কী দিতে পেরেছে? যদি কিছুই দিতে না পারে, তাহলে আমরা যে কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, সেই টাকা ফেরত চাইব না কেন? তাহলে বিশ্বকাপে না খেললে ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে?’

ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে ক্রিকেটারদের প্রশ্ন তোলার অধিকার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নাজমুল বলেন, ‘আমাদের কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন তুলতেই পারবে না তারা। আমরা যাদের পেছনে এত খরচ করছি, তারা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে কিছুই করতে পারছে না। একটি বিশ্বকাপও আনতে পারেনি। তাহলে তো আমরাও বলতে পারি, তোমাদের পেছনে যা খরচ করেছি, তা ফেরত নিতে থাকব।’

এই মন্তব্যের পরপরই এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করে কোয়াব। দাবি মানা না হলে ক্রিকেট বয়কটের ঘোষণাও দেওয়া হয়। তবে এখনো পদ ছাড়েননি তিনি। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিপিএলে। ঢাকা পর্বের প্রথম ম্যাচে অংশ নিতে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের ক্রিকেটাররা মাঠে নামেননি।

এদিকে ছয় দলের ক্রিকেটাররা ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে একত্রিত হন। দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, ‘আমরা খেলার বিপক্ষে নই। কিন্তু সবকিছুরই তো একটা সীমা আছে। সেই সীমা অতিক্রম করা হয়েছে। এটা শুধু আমাদের না, পুরো ক্রিকেটাঙ্গনের জন্যই অপমানজনক। আইসিসির ট্রফি থেকে শুরু করে প্রতিটি ইস্যুতেই তিনি ক্রিকেটারদের অবদান অস্বীকার করে গেছেন। তার কাছে বিশ্বকাপও গুরুত্বহীন—ক্রিকেটের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা নেই।’

নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়ে মিঠুন আরও বলেন, ‘আমরা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। তারা খেলা শুরু করার জন্য আমাদের কাছে এসেছে। কিন্তু আমাদের দাবি মানা না হলে আমরা মাঠে নামব না। এই অবস্থান আজকের নয়—দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণের ফল। আমরা চেয়েছিলাম সম্মানের সঙ্গে, বন্ধ দরজার ভেতর আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হোক। বিসিবিতে অনেক সাবেক ক্রিকেটার রয়েছেন, আমরা চাইনি ক্রিকেটের অসম্মান হোক। নীরবে সব ঠিক করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বাস্তবতা আপনারাই দেখছেন। বিসিবি যদি এই সংকটের সমাধান করে, তাহলেই আমরা মাঠে ফিরব।’