tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়তাহসিফ হত্যা: সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট দীপের আরও তিন দিনের রিমান্ড

তাহসিফ হত্যা: সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট দীপের আরও তিন দিনের রিমান্ড

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে দ্বিতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। এর আগে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এদিন প্রথম দফার রিমান্ড শেষে দীপকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। তদন্তের প্রয়োজনে তাকে আরও সাত দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তিনি।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের পাশাপাশি জামিনের আবেদন করেন। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের দিন তাহসিফকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন দীপ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তাহসিফকে নিজের সিনিয়র বড় ভাই হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি প্রাথমিক তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে সেদিন আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। রাত অনেক হলেও তিনি ফিরে না আসায় তার মা ফোন করে খোঁজ নেন। তখন কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসায় ফেরার আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফের মেসেঞ্জার অ্যাকাউন্ট থেকে মায়ের কাছে একটি ভয়েস বার্তা আসে। সেখানে বলা হয়, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এ ঘটনায় ৩০ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরবর্তী সময়ে পুলিশ দীপকে এ মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখায়।