tanaka

জন্মদিনে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা, ধন্যবাদ জানালেন নরেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুভেচ্ছার জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের...
প্রচ্ছদরাজনীতিতারেক রহমানের দেশে ফেরা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে

তারেক রহমানের দেশে ফেরা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা এখন প্রস্তুতির শেষ ধাপে। তিনি দেশে ফিরে কোথায় অবস্থান করবেন এবং কোথায় রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন— এসব বিষয়ে দল প্রায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তার আগমনকে কেন্দ্র করে দলীয়ভাবে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠক হয়েছে।
তবে কৌশলগত কারণ দেখিয়ে তারেক রহমানের ফেরার নির্দিষ্ট দিন-তারিখ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তিনিও এ বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। যদিও একাধিক সূত্র বলছে, বিজয় দিবস সামনে রেখে তার দেশে ফেরার প্রস্তুতি প্রায় নিশ্চিত। তার আগমনকে ঘিরে সম্ভাব্য উৎসাহ-উচ্ছ্বাস বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা ও অন্যান্য আয়োজনও সাজানো হচ্ছে। তবে আগমনের দিন বড় কোনো জনসমাবেশ হবে কিনা, তা নির্ভর করবে তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর।

দলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই শীর্ষ নেতা জনতার চোখ–কে জানান, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে। তফসিলের আগে নাকি পরে তিনি ফিরবেন— এ নিয়ে দলে আলোচনা চলছে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “তারেক রহমানই জানেন তিনি কবে দেশে ফিরবেন। তবে আমরা সবসময়ই তার দেশে ফেরার জন্য প্রস্তুত।”

এদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দেশে ফিরে তারেক রহমান গুলশান-২-এর এভিনিউ রোডের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে উঠতে পারেন। বাড়িটিকে পুনর্নির্মাণ, সংস্কার ও সিসিটিভি স্থাপনসহ নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। সিএসএফ সদস্যরাও দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি ধানমণ্ডির ৫ নম্বর সড়কের ‘মাহবুব ভবন’-এ তিনি থাকতে পারেন বলেও আলোচনা আছে; এটি তার শ্বশুর সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের বাসভবন।

সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়ির নামজারি সম্পন্ন করে এবং সংশ্লিষ্ট নথি খালেদা জিয়ার কাছে হস্তান্তর করে। বাড়িটির ঠিক পাশেই রয়েছে খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’। ১৯৮১ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তৎকালীন সরকার বাড়িটি খালেদা জিয়াকে বরাদ্দ দেয়।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়েই তারেক রহমানের অফিস রুম প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারের কাজ চলছে।

খালেদা জিয়ার নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী (সিএসএফ) সদস্যরাই তারেক রহমানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। নির্বাচনী প্রচারণার কথা ভেবে বিএনপি ইতোমধ্যে দু’টি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বুলেটপ্রুফ বাস (অক্টোবরে অনুমোদিত) এবং একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি (জুনে অনুমোদিত) কেনার অনুমতি দিয়েছে। এছাড়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের জন্যও আবেদন করেছে দলটি।

বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির জানান, “তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিনক্ষণ নির্ধারণ হয়নি। তবে নির্বাচনে তার নেতৃত্বে অংশ নিতে আমরা প্রস্তুত। সুতরাং তিনি খুব দ্রুতই ফিরবেন— এটা ধরে নেওয়া যায়। তার নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।”

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার কারাবরণের পর দলীয়ভাবে তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। চলতি বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি সব মামলা থেকে অব্যাহতি পান। প্রয়োজন হলে তার জন্য পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি সরকার সরবরাহ করবে বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

প্রায় ১৭ বছর ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন তারেক রহমান। ২০০৭ সালের ৭ মার্চ জরুরি অবস্থার সময় তিনি গ্রেপ্তার হন এবং কারাগারে নির্যাতনের শিকার হন। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তির পর ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান এবং সেখান থেকেই দলের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

সূত্র: জনতার চোখ