ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক গুলশানে ফ্ল্যাট থাকার পরও পূর্বাচলে ১০ কাঠা প্লট নিয়েছেন। রোববার দুদকের মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এ দেওয়া জবানবন্দিতে কয়েকজন সাক্ষী এ তথ্য জানান।
আদালতে সাক্ষ্য দেন ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের নির্বাহী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ফরহাদুজ্জামান, অপারেটর শেখ শমশের আলী, অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ সদস্য হিমেল চন্দ্র দাস এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আক্তার জাহান। তারা জানান, টিউলিপ সিদ্দিক ফ্ল্যাটটি পরে তার বোন আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তিকে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হস্তান্তরের চেষ্টা করেছিলেন। তবে রেজিস্ট্রেশনবিহীন দলিল দিয়ে হস্তান্তর আইনগতভাবে কার্যকর নয়, তাই ফ্ল্যাটের মালিক এখনো টিউলিপ।
মামলার আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের জেরা হয়নি। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ৬ অক্টোবর ধার্য করেছেন। দুদক প্রসিকিউটর খান মো. মঈনুল হাসান বিষয়টি জানান।
জানা গেছে, জানুয়ারিতে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে পৃথকভাবে ছয়টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে তিনটি মামলায় শেখ রেহানা ও তার সন্তানদের নাম রয়েছে। তিন মামলায় মোট আসামি ৫৩ জন। এর মধ্যে টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তি, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকসহ অন্যান্য সদস্যরা রয়েছেন।
অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ও কর্মকর্তারা, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব।
মামলায় অভিযোগ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার ক্ষমতার অপব্যবহার করে অযোগ্য হলেও পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নিয়েছিলেন। ৩১ জুলাই একই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।



