জামায়াতকে ঘিরে রাজনৈতিক মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে ৯৬-এর পুরোনো প্রেম আবারও জেগে উঠেছে।’ একই সঙ্গে এই রাজনৈতিক সমীকরণে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাশেদ খাঁনের পোস্টে বিএনপি সরকারের সামনে থাকা রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরা হয়। তিনি দাবি করেন, দুটি বিরোধী দলের কর্মকাণ্ড মোকাবিলা করেই সরকারকে দেশ পরিচালনা করতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগও করেন তিনি।
তার ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাস-ট্রেনে আগুন দেওয়া, ককটেল বিস্ফোরণসহ আতঙ্ক তৈরির কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং বিদেশেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
জামায়াতের প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, তার কাছে মনে হচ্ছে, শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দলটি আওয়ামী লীগের কৌশলের পথ অনুসরণ করছে। নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় দেশ-বিদেশের অনেকের কাছে দলটি কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপি প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, জামায়াতের সঙ্গে দলটির ঘনিষ্ঠতার কারণে এনসিপির কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে গেছে।
রাশেদ আরও বলেন, অনেকে মনে করছেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করে জামায়াত রাজপথের কর্মসূচিকে সক্রিয় করে বিরোধী দলের অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে। অন্যদিকে জামায়াতের সংসদীয় ভূমিকার দুর্বলতার কারণে আওয়ামী লীগও বিরোধী দল হিসেবে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ খুঁজছে বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, এসব রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড ও জামায়াতের রাজনীতি মোকাবিলা করে বিএনপি সরকারকে দেশ পরিচালনা করতে হচ্ছে।
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় জামায়াতের কাছ থেকে সম্মিলিত ভূমিকা প্রত্যাশা করেছিলেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন। তার দাবি, আওয়ামী লীগের বিষয়ে জামায়াত নীরব অবস্থান নিয়েছে।
পোস্টের শেষাংশে তিনি ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে ‘পুরোনো প্রেম’ আবার জেগে ওঠার মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে এই রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে এনসিপির অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রাখেন তিনি।



