tanaka

মেরুল বাড্ডায় রাজউকের দেড় হাজার কোটি টাকার জমি ২১ বছর ধরে দখলে

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় রাজউকের প্রায় ১১ একর জমি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমিটির বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। একই জমিকে ঘিরে প্রায় ছয় হাজার মানুষের কাছ থেকে ৩০০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
প্রচ্ছদজাতীয়ঘনকুয়াশায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ, রাতভর যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

ঘনকুয়াশায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ, রাতভর যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

রোববার সন্ধ্যায় পোশাককর্মী হারুন মিয়া ও তার স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে গাজীপুর থেকে রাজধানীর সদরঘাটে আসেন। লঞ্চ টার্মিনালের এক কোণে বসে ছিলেন তারা। জিজ্ঞেস করতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, গাজীপুর থেকে রওয়ানা হয়ে জ্যাম ঠেলে ঘাটে পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। লঞ্চ ছাড়বে না। সঙ্গে ছোট বাচ্চা আর পরিবার নিয়ে এই শীতের রাতে কোথায় যাবো?

ঘনকুয়াশার কারণে নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতে রাজধানী সদরঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলের সব রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর করা হয়। কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়া হঠাৎ লঞ্চ চলাচল বন্ধ হওয়ায় সদরঘাটে আসা হারুন মিয়ার মতো হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক যাত্রী টার্মিনালেই রাত কাটান।

এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘনকুয়াশার কারণে নৌপথের দৃশ্যমানতা কমে আসায় যাত্রীনিরাপত্তার স্বার্থে চাঁদপুর ও দক্ষিণাঞ্চলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়া যে সব লঞ্চ এরইমধ্যে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে মাঝপথে রয়েছে, তাদের অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ অনুযায়ী নিরাপদ স্থানে নোঙর করে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সদরঘাটে গিয়ে দেখা যায়, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা ঘাটে অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ লঞ্চ বন্ধের খবর আসে। ঘাটের মাইকেও ঘোষণা প্রচার করা হয়। এসময় ক্ষুব্ধ হন যাত্রীরা।

যাত্রীদের অভিযোগ, আগে থেকে আবহাওয়া বার্তা বা লঞ্চ বন্ধের তথ্য না পাওয়ায় তারা মালামাল ও পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। অনেকে লঞ্চ ছেড়ে আবার পরিচিতজনদের বাসা বাড়িতে ফিরছিলেন।সদরঘাটে পটুয়াখালীগামী লঞ্চের জন্য অপেক্ষারত বৃদ্ধ আব্দুল মালেক বলেন, ঢাকার এক হাসপাতালে ১০ দিন চিকিৎসার পর বাড়ি ফেরার কথা ছিল। তিনি বলেন, মিরপুর থেকে কষ্ট করে ঘাটে এলাম, এখন শুনি লঞ্চ চলবে না। এই অসুস্থ শরীর নিয়ে এখন কোথায় যাবো? থাকার জায়গাও নেই, টাকাও শেষ।

ভোগান্তির কথা জানান গাজীপুর থেকে আসা পোশাক শ্রমিক মরিয়ম বেগম। তিনি বলেন, গাজীপুর থেকে অনেক কষ্টে জ্যাম ঠেলে সদরঘাট এসেছি বরিশাল যাওয়ার জন্য। এসে দেখি লঞ্চ বন্ধ। আগে থেকে জানলে আসতাম না। বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে কনকনে শীতে সারারাত ঘাটে বসে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।