tanaka

সুক্কটের মধ্যে ইব্রাহিমি মসজিদে বেন-গভির, হেবরনে বাড়তি নিরাপত্তা

সুক্কটের মধ্যে ইব্রাহিমি মসজিদে বেন-গভির, হেবরনে বাড়তি নিরাপত্তা
প্রচ্ছদসারাদেশগোপালগঞ্জে বৃদ্ধার জমি দখলের অভিযোগ,

গোপালগঞ্জে বৃদ্ধার জমি দখলের অভিযোগ,

গোপালগঞ্জ শহরের শিশু বন এলাকায় এক বৃদ্ধার ৮ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা মিঠু মুন্সি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। জমি দখলের প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধার শ্রবণপ্রতিবন্ধী ছেলে জাফর শেখ ও তার স্ত্রী সাবিনা বেগমকে মারধর করে আহত করার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় সাবিনা বেগম বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে শিশু বন এলাকার মুক্তাদির মোল্লা ও তার ছেলে নওশের মোল্লার কাছ থেকে ৩০ শতাংশ জমি কেনেন শুকুরন্নেসা বেগম। পরে চার সন্তানের মধ্যে জমিটি ভাগ করে দেন তিনি। সেখানে ঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন পরিবারের সদস্যরা।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় তিন বছর আগে গোপালগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মিঠু মুন্সি তার দুই ভাই লিটু মুন্সি ও তামিম মুন্সিসহ দলীয় লোকজন নিয়ে ওই সম্পত্তির একটি অংশ নিজেদের বলে দাবি করেন। পরে শুকুরন্নেসার জমির মধ্য থেকে ৮ শতাংশ জায়গা তারা দখলে নেন বলে অভিযোগ পরিবারের। সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের কথাও তারা জানিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

পরিবারটির অভিযোগ, জমি নিয়ে আপত্তি জানানো হলে তাদের বাড়ি থেকে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন শুকুরন্নেসা ও তার স্বজনরা।

বিরোধ মেটাতে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো সমাধান হয়নি। স্থানীয়দের উদ্যোগে সর্বশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে একটি সালিশ বৈঠক বসে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বৈঠক চলাকালে মিঠু মুন্সির লোকজন শুকুরন্নেসার বড় ছেলে জাফর শেখকে মারধর করে আহত করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।

শুকুরন্নেসার ছেলে ও পেশায় রিকশাচালক শহিদুল তালুকদার বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে তারা ওই বাড়িতে বসবাস করছেন। তার অভিযোগ, তিন বছর আগে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মিঠু মুন্সি তাদের বাড়ির ভেতর থেকে ৮ শতাংশ জমি দখল করে নেন। এর প্রতিবাদ করায় পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

জাফর শেখের মেয়ে মিম আক্তারের অভিযোগ, মিঠু মুন্সির নেতৃত্বে লোকজন তার প্রতিবন্ধী বাবাকে মারধর করেছে। একই সঙ্গে তাদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বৃদ্ধা শুকুরন্নেসা বেগম বলেন, জমি থেকে তাদের স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেওয়ার জন্য মিঠু মুন্সি এখনো বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিঠু মুন্সির মা রহিমা বেগম। তার দাবি, গ্রামের পাপা মোল্লার কাছ থেকে তারা ১১ শতাংশ জমি কিনেছেন। সেই জমির ৮ শতাংশ শুকুরন্নেসার সম্পত্তির ভেতরে পড়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা নিজেদের জমিই বুঝে নিয়েছেন এবং শুকুরন্নেসার পরিবারকে নিচের দিকে সরে যেতে বলেছেন। কারও জমি জোর করে দখল করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

রহিমা বেগম আরও বলেন, স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছিল, তারা সেগুলো মেনে নিয়েছেন। এরপরও তাদের বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।