২০২৬-২৭ অর্থবছরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলমান ৪৪টি প্রকল্পে মোট ৩ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) অধীনে বাস্তবায়নাধীন ছয়টি প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩১৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প ও বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয়ে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা এমপির সভাপতিত্বে বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এমপি, কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শহরে মাঠ-পার্ক বাড়ানোর উদ্যোগ
বৈঠকে শহরাঞ্চলে খেলার মাঠ ও পার্কের সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সংকট নিরসনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
ঢাকাকে একটি মডেল সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে ধাপে ধাপে সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে পুরান ঢাকার পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে।
সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ বর্গফুট ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের কাজ চলছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।
ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন প্রকল্প
সরকারি ভবনগুলোর ভূমিকম্প সহনশীলতা নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প বর্তমানে চলমান রয়েছে। পাশাপাশি দেশের ৪২টি জেলায় সরকারি ভবনগুলোর ভূমিকম্প সহনশীলতা নির্ণয়ের জন্য নতুন একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
পরিত্যক্ত ও বিতর্কিত প্লটের জটিলতা নিরসনেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে ন্যায্যতা ও আইনের ভিত্তিতে এসব বিষয় নিষ্পত্তির সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভূমিদখলকারীদের কাছ থেকে জাতীয় সম্পত্তি উদ্ধারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ল্যান্ড ব্যাংক বা ভূমি তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ভূমি-সংক্রান্ত তথ্যের অটোমেশনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রাজউকের প্ল্যান অনুমোদনে ওয়ান স্টপ সার্ভিস
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বৈঠকে।
এ ছাড়া কক্সবাজারের চলমান মাস্টারপ্ল্যান উন্নয়নমুখী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী।
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানানো হয়।
সংসদ ভবনে বর্ষায় পানি পড়ার বিষয়েও আলোচনা
বৈঠকের বিবিধ আলোচনায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে বর্ষাকালে পানি পড়ার বিষয়টি তুলে ধরেন কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা। বিষয়টির প্রতি বিশেষ নজর দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা ও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
সভাপতি বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এবং আইনের শাসন সমুন্নত রেখে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে সততার সঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকে কমিটির সদস্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, মো. লুৎফুজ্জামান বাবর, মো. মোশারফ হোসেন, শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ও ফেরদৌসী আহমেদ অংশ নেন।
এ ছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।



