tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়া ও সংস্কৃতি চর্চায় গুরুত্ব দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়া ও সংস্কৃতি চর্চায় গুরুত্ব দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়া, সংস্কৃতি চর্চা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে দক্ষ হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু খেলাধুলায় নয়, জ্ঞান ও সৃজনশীলতায়ও এগিয়ে যেতে হবে নতুন প্রজন্মকে।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ছোট্ট বন্ধুরা, শুধু খেললে হবে না। লেখাপড়া, গান, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ সব ক্ষেত্রেই পারদর্শী হতে হবে। খেলাধুলার পাশাপাশি সৃজনশীল কাজেও নিজেদের দক্ষ করে তুলতে হবে।”

তিনি জানান, চলতি বছর গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট মাধ্যমিক পর্যায়েও আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী বছর ‘প্রাইম মিনিস্টার কাপ’ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানতে চান, কারা খেলাধুলা করতে আগ্রহী। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী হাত তুললে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তারেক রহমান বলেন, “এ বছর প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে। তবে শুধু ফুটবল নয়, ক্রিকেট খেলতে হবে, সাঁতার শিখতে হবে। তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই সব ক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে।”

অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে বর্ণিল ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণ করে শিক্ষার্থী ও দর্শকদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। এরপর বেলুন উড়িয়ে বালিকা বিভাগের ফাইনাল ম্যাচের উদ্বোধন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনের আগে আমরা দেশের খেলাধুলাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছি। শুধু ফুটবল বা ক্রিকেট নয়, সব ধরনের খেলায় বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “তোমরা এমনভাবে নিজেদের গড়ে তুলবে, যাতে একদিন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারো। আমরা যতটুকু পেরেছি, তোমরা তার চেয়েও অনেক বেশি অর্জন করবে।”

বালিকা বিভাগের ফাইনালে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৪-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

অন্যদিকে বালক বিভাগের ফাইনালে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলে পরাজিত করে শিরোপা জিতে নেয় বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, গত দেড় মাসে গোল্ডকাপের আওতায় প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আয়োজনকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমাদের অনেকেই ভালো গান গাও, কোরআন তেলাওয়াত করো। খেলাধুলার পাশাপাশি এসব ক্ষেত্রেও দক্ষ হতে হবে। তোমরা যদি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হও, তাহলে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”

বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রোনালদো, মেসি কিংবা এমবাপ্পের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে। অলিম্পিকসহ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সাফল্য বাড়াতে ইতোমধ্যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “ক্রিকেটের মাধ্যমে যেমন বিশ্ব বাংলাদেশকে চিনেছে, তেমনি ফুটবল, হকি, সাঁতার ও টেনিসের মাধ্যমেও বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করতে হবে। তোমরাই হবে বাংলাদেশের দূত।”

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্য শেষে বিজয়ী ও রানারআপ দলের খেলোয়াড়, সেরা খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিদের হাতে নগদ অর্থ, পদক ও সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজন প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ গত ৬ এপ্রিল শুরু হয়। এতে দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২২ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। গ্রাম থেকে বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে চারটি দল জাতীয় পর্যায়ের ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, প্রাথমিক স্তরে ক্রীড়া চর্চা ও প্রতিভা বিকাশে ভবিষ্যতে এ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।