tanaka

নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন, দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জি-৪-এর

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে জি-৪ জোট। ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান নিয়ে গঠিত এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা...
প্রচ্ছদখেলাকে সেরা—মেসি না রোনালদো? চিরন্তন বিতর্কের নতুন অধ্যায়

কে সেরা—মেসি না রোনালদো? চিরন্তন বিতর্কের নতুন অধ্যায়

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো ও জনপ্রিয় বিতর্কগুলোর একটি—কে সেরা, লিওনেল মেসি নাকি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো? বছরের পর বছর ধরে এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট কোনো উত্তর মেলেনি। কারণ, দুজনই নিজেদের অসাধারণ পারফরম্যান্স, রেকর্ড এবং ব্যক্তিত্ব দিয়ে ফুটবল ইতিহাসে আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন।

এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্যক্তিগত জীবন, জনপ্রিয়তা, বাণিজ্যিক সাফল্য—সব ক্ষেত্রেই একে অপরকে টক্কর দিয়ে চলেছেন দুই মহাতারকা। চলতি বিশ্বকাপেও তারা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এককভাবে উঠে এসেছেন। অন্যদিকে ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দুই গোল করে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার বিরল কীর্তি গড়েছেন।

শৈশব থেকে কিংবদন্তি

১৯৮৭ সালে জন্ম নেওয়া মেসির ফুটবলযাত্রা ছিল সংগ্রামময়। বাবা হোর্হে হোরাসিও ছিলেন তার প্রথম কোচ। ছোটবেলায় পরিবারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিতেন তার দাদি সেলিয়া। অনেকেই তাকে খেলায় নিতে না চাইলে দাদিই পাশে দাঁড়াতেন। তবে মেসির বিশ্বজয়ের গল্প দেখে যেতে পারেননি তিনি; ১৯৯৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

এর কয়েক বছর পর নাটকীয়ভাবে বার্সেলোনায় সুযোগ পান মেসি। একটি ন্যাপকিনে লেখা চুক্তির গল্প আজ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

অন্যদিকে ১৯৮৫ সালে জন্ম নেওয়া রোনালদোর বেড়ে ওঠাও ছিল প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে। পর্তুগালের মাদেইরা থেকে শুরু করে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার যাত্রা তাকে এনে দিয়েছে অসংখ্য রেকর্ড ও পাঁচটি ব্যালন ডি’অর।

মাঠের বাইরের দুই ভিন্ন জীবন

মাঠের বাইরে দুজনের জীবনযাপনেও রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য।

রোনালদো বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য পরিচিত। সুপারকার সংগ্রহ, নিজস্ব ব্র্যান্ড CR7, ফিটনেস সচেতনতা এবং গ্ল্যামার—সব মিলিয়ে তিনি যেন এক বৈশ্বিক আইকন। ৪১ বছর বয়সেও তার শারীরিক ফিটনেস অনেক তরুণ ফুটবলারের জন্য অনুকরণীয়।

অন্যদিকে মেসি তুলনামূলকভাবে অনেক শান্ত ও পারিবারিক জীবন পছন্দ করেন। শৈশবের প্রেমিকা আন্তোনেলা রোকুজ্জোকে বিয়ে করে তিন সন্তানকে নিয়ে সুখী সংসার করছেন। অবসর সময়ে পরিবার নিয়ে সময় কাটানো কিংবা সন্তানদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে দেখা যায় তাকে।

জনপ্রিয়তায় কে এগিয়ে?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যায় রোনালদো এগিয়ে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে এক বিলিয়নেরও বেশি অনুসারী নিয়ে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের একজন।

মেসির অনুসারীও বিপুল হলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনেক বেশি সংযত। সংবাদ সম্মেলন কিংবা জনসম্মুখে বিতর্ক এড়িয়ে চলাই তার স্বভাব।

রেকর্ড বনাম ব্যক্তিত্ব

মেসির ঝুলিতে রয়েছে রেকর্ডসংখ্যক ব্যালন ডি’অর এবং অসংখ্য দলীয় ও ব্যক্তিগত শিরোপা। অনেক ফুটবল বিশ্লেষক তাকে GOAT (Greatest of All Time) বলে অভিহিত করেন।

অন্যদিকে গোল করার ধারাবাহিকতা, অবিশ্বাস্য ফিটনেস, আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার জন্য রোনালদোকে আলাদা উচ্চতায় রাখা হয়।

সম্ভাব্য শেষ মহারণ

সমীকরণ ঠিক থাকলে চলতি বিশ্বকাপের ১১ জুলাই কানসাস সিটিতে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল। তবে সেটি নির্ভর করছে দুই দলই নিজ নিজ নকআউট ম্যাচ জিততে পারার ওপর।

যদি সেই ম্যাচ হয়, তবে সেটি হতে পারে বিশ্বমঞ্চে মেসি ও রোনালদোর শেষ বড় লড়াই—যা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য হবে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

উপসংহার

মাঠের পারফরম্যান্সে মেসিকে অনেকেই ফুটবলের জাদুকর বলে মনে করেন। অন্যদিকে রোনালদো তার আত্মবিশ্বাস, ফিটনেস, ব্যক্তিত্ব ও গ্ল্যামার দিয়ে কোটি ভক্তকে অনুপ্রাণিত করে চলেছেন।

বাস্তবতা হলো, মেসি ও রোনালদো—দুজনই নিজ নিজ বৈশিষ্ট্যে অনন্য। কে সেরা, সেই বিতর্কের চূড়ান্ত উত্তর হয়তো কখনোই মিলবে না। তবে এটুকু নিশ্চিত, এই দুই কিংবদন্তি ফুটবল ইতিহাসকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বহু বছর ধরে স্মরণ করবে।