কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর মাত্র তিন মাসের মধ্যেই সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত শুরু করেছে।
বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে বৃক্ষরোপণ: এনজিওর ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি হলো দেশের বিপুল তরুণ ও নারী জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে সরকার এমন একটি সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে দক্ষতা ও কারিগরি যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সবাইকে অনার্স-মাস্টার্স করতে হবে—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্পখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।
শিক্ষার উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু সনদ অর্জন নয়, বরং সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা এবং অর্জিত জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত শিক্ষার মূল লক্ষ্য।
সরকারের তিন মাস পূর্তির প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। গত ১৮ বছরে অনুপস্থিত থাকা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে যৌক্তিক সমালোচনার অধিকার নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মতাদর্শগত ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার।
মাহদী আমিন জানান, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী এবং কৃষিঋণের মতো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব উদ্যোগ সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এনজিওগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে এনজিওগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সরকার এককভাবে নয়, বরং এনজিওগুলোকে বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে নিয়ে কাজ করতে চায়। তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগানো নয়, এ খাতে দক্ষ জনবল তৈরিও জরুরি। বিদেশেও বৃক্ষরোপণে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে। তাই এনজিওগুলোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে জনশক্তিকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



