পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বিনাটিকিটের যাত্রী ঠেকাতে রাজধানীর কমলাপুর স্টেশন ঘিরে দেওয়া হয়েছে বাঁশের বেড়া। যেনো টিকিট ছাড়া কেউ স্টেশনে প্রবেশ করতে পারে না। তিন ধাপে টিকিট যাচাই শেষে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ফলে বিনা টিকিটে কেউ ট্রেনে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন না।
বুধবার (১৮ মার্চ) ভোর থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এই কঠোর তদারকি দেখা গেছে। স্টেশনের প্রবেশপথ, প্ল্যাটফর্মের আগে এবং ট্রেনে ওঠার আগে এই তিন ধাপে টিকিট পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোনো যাত্রীর কাছে বৈধ টিকিট না থাকলে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।তবে কেউ কেউ প্রথম ধাপ পার হয়ে ভেতরে ঢুকলেও পরবর্তী ধাপে এসে আটকে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় তাদের স্ট্যান্ডিং বা দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট কেটে তবেই স্টেশনে প্রবেশের অনুমতি মিলছে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ঈদযাত্রাকে সুশৃঙ্খল রাখতে আমরা আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। বিনা টিকিটে কেউ কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়া বিনা টিকিটে ভ্রমণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
এদিন কথা হয় ইয়ারুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি অনলাইনে টিকিট কিনতে পারেননি। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী বলেন, আমি নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেছি, কিন্তু বারবারই সার্ভার ডাউন পেয়েছি। হয়তো একসঙ্গে অনেকেই প্রবেশের চেষ্টা করছিল, তাই অতিরিক্ত চাপ থাকায় প্রবেশ করতে পারিনি। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ট্রেনের ছাদে উঠেই গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেব। কিন্তু কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এসে প্রথম ধাপে মানবিক দিক বিবেচনায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও দ্বিতীয় ধাপে এসে আটকে দেওয়া হয়। পরে আমাকে একটি স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হয়েছে। সেটি নিয়েই এখন বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবো।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান শরিফুল ইসলাম। তিনি পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনে সিলেট যাবেন, কিন্তু আগে থেকে টিকিট কাটতে পারেননি। স্টেশনে আসার পর টিটিই এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী তাকে আটকে দেন। পরে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন।



