রাজধানীর উত্তরা এলাকায় সমন্বয়ক পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীর বাসায় ঢুকে ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ফারিয়া আক্তার তমার পক্ষে আইনি লড়াই করতে চান বিএনপির স্থগিত হওয়া নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।
সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফজলুর রহমান বলেন, “যে মেয়ে আমার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিল—‘ফজু পাগলাকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত যাব না’—সে এখন চাঁদাবাজির অভিযোগে ধরা পড়েছে। তাই আমি তাকে ছাড়াতে কোর্টে দাঁড়াবো। কারণ, আমি তাকে আমার মেয়ে বলেই মনে করি।”
তিনি আরও বলেন, “জামায়াত এদের নষ্ট করছে। আমি চেয়েছি এদের ভালো করতে। দেশের ভালোর জন্যই চেষ্টা করছি। এরা আমার মেয়ের মতো, আমি কেন তাদের জন্য লড়বো না?”
এ সময় জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “জামায়াতের লোকেরা আমাকে যেভাবে অপমান করেছে, জন্মের পর কোনো রাজনৈতিক দল এমন অপমান করেনি।”
ফজলুর রহমান দাবি করেন, “যে স্বপ্ন নিয়ে আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। দেশে এখনো মানবতা, বিবেক ও প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে শিল্প-কারখানা থেকে সেনাবাহিনীর জেনারেল পর্যন্ত—সব জায়গায় বাঙালিদের উপস্থিতি রয়েছে, যা কিছুটা আশার।”
তিনি বলেন, “এখন অনেকে বলে ১৯৭১ সালের যুদ্ধ নাকি ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া ছিল। এর চেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা আর কিছু হতে পারে না। যেমন কারবালার ইতিহাস ইয়াজিদরা মুছে ফেলতে পারেনি, তেমনি মুক্তিযুদ্ধবিরোধীরাও স্বাধীনতার ইতিহাস মুছে ফেলতে পারবে না। মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা যেমন ইতিহাসে থেকে গেছে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও চিরকাল স্মরণীয় থাকবে।”
উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট ফজলুর রহমানের বিতর্কিত বক্তব্যের প্রতিবাদে তার বাসার সামনে অবস্থান নেন একদল ব্যক্তি, যাদের সঙ্গে ছিলেন ফারিয়া আক্তার তমাও।



