ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসতেও নিজের কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইরানের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তিনি প্রস্তুত এবং এতে তার কোনো সমস্যা নেই। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, “তারা যদি দেখা করতে চায়, আমি প্রস্তুত। আমাদের দক্ষ আলোচক দল আছে, তবে আমি নিজেও দেখা করতে কোনো আপত্তি নেই।” তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে নির্ধারিত আলোচনায় অগ্রগতি হতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাকেই জানিয়েছেন, পরবর্তী দফা আলোচনার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রতি সমর্থন জানালেও সতর্ক অবস্থানের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পদক্ষেপ অতীতের মতোই কূটনৈতিক আস্থার সংকট তৈরি করছে।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, আজই ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এই আলোচনার সময়টি এমন এক প্রেক্ষাপটে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার শেষ হওয়ার কথা।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি কার্গো জাহাজ জব্দ করেছে এবং নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের কথা বলেছে। পাশাপাশি তারা স্পষ্ট করেছে, তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কোনোভাবেই আলোচনার বিষয় হবে না।
অন্যদিকে এই আলোচনাকে সফল করতে পাকিস্তানও কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করেছে। ইসলামাবাদে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ২০ হাজার নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।



