আফগানিস্তানে পাকিস্তানের চালানো বিমান হামলায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তালেবান সরকার। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) তালেবানের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ এক্সে এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, পাকিস্তানের ‘আগ্রাসী’ বাহিনী খোস্ত প্রদেশে এক বেসামরিক নাগরিকের বাড়িতে বোমা হামলা চালায়। এতে পাঁচ ছেলে ও চার মেয়েসহ মোট নয় শিশু এবং একজন নারী নিহত হন। এছাড়া কুনার ও পাকতিকা সীমান্ত অঞ্চলে পরিচালিত আরেক দফা হামলায় আরও চার বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত হয়ে উঠছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ—আফগানিস্তান সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালানো জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে কাবুল, তবে তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করছে।
গত ৯ অক্টোবর কাবুলে এক বিস্ফোরণের পর নতুন করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। ওই ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করে তালেবান সরকার। পরবর্তী সংঘাতে বেসামরিকসহ ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়।
দুই দেশের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার (১,৬০০ মাইল) দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এর আগে ১৯ অক্টোবর তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায় দুদেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও উত্তেজনা কমেনি।
এদিকে চলমান সীমান্ত সংকট নিরসনে বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলে পাকিস্তান ও আফগান তালেবান সরকারের মধ্যে তৃতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে কাবুল কোনো লিখিত চুক্তিতে সই করতে রাজি না হওয়ায় আলোচনাটি ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়।



