tanaka

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা

দেশের বাজারে আবারও কমেছে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ...
প্রচ্ছদরাজনীতিআইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি: তারেক রহমান

আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি: তারেক রহমান

আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের সব সাংবিধানিক, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হবে বিধিবদ্ধ নীতিমালার ভিত্তিতে। দলীয় প্রভাব, রাজনৈতিক প্রতিপত্তি কিংবা জোরজবরদস্তির কোনো স্থান থাকবে না—রাষ্ট্র পরিচালনায় চূড়ান্ত কথা হবে আইনের শাসন।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসন, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কারণে অর্থনীতি ও প্রশাসনিক কাঠামো ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। এমন বাস্তবতায় নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতির কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা হবে সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি জানান, জুয়া ও মাদকের বিস্তার আইনশৃঙ্খলা অবনতির বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনজীবনে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে জবাবদিহিমূলক একটি নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই সূচনালগ্নে তিনি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ-দলমত নির্বিশেষে পাহাড় থেকে সমতল—এই দেশ সবার। প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ, মানবিক ও স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়াই সরকারের লক্ষ্য।

রমজান উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আত্মশুদ্ধির এই মাসে অযৌক্তিক মুনাফা অর্জনের প্রবণতা থেকে ব্যবসায়ীদের বিরত থাকতে হবে। দ্রব্যমূল্য যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। অনিয়ম-দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, সরকার ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেই বাজার ব্যবস্থাপনায় পদক্ষেপ নেবে। বাজার নিয়ন্ত্রণ ও স্বার্থরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বিষয়ে যেকোনো পরামর্শ বা অভিযোগ গ্রহণে সরকার প্রস্তুত।

রমজানে ইফতার, সেহরি ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে অপচয় রোধ ও কৃচ্ছতা সাধনের আহ্বান জানান তিনি।

সরকারি সুবিধা কমানোর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বিএনপি থেকে নির্বাচিত এমপিরা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি বা প্লট সুবিধা গ্রহণ করবেন না—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে সুশাসনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যায়।

রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে যানজট নিরসনে বিকল্প পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেল, নৌ, সড়ক ও সেতু খাতের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সারাদেশে আধুনিক, সহজ ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এতে নগরকেন্দ্রিক চাপ কমবে এবং পরিবেশের উন্নতি ঘটবে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা গেলে বিশাল জনগোষ্ঠীই হবে দেশের সম্পদ। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তরুণদের দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিতে সরকার প্রস্তুত।

নিজের পূর্বঘোষিত পরিকল্পনার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। অঙ্গীকার পূরণের এ যাত্রায় দেশবাসীর অব্যাহত সমর্থন কামনা করেন তিনি।

সবশেষে তিনি বলেন, যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন বা দেননি—সবাইয়ের অধিকার সমান। রাষ্ট্র সবার, নাগরিক অধিকারও সবার সমান। দেশের কল্যাণ ও ইতিবাচক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।