প্রায় আট মাস ধরে শূন্য থাকা সাংবিধানিক পদ পূরণে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের (আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর) নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর)। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার আবহের মধ্যেই মুজাফফরাবাদে বিধানসভার সচিবালয়ে স্থানীয় সময় সকাল থেকে এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
আঞ্চলিক বিধান অনুযায়ী, ৫৩ সদস্যের বিধানসভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে একজন প্রার্থীকে অন্তত ২৭টি ভোট পেতে হবে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) সমর্থিত প্রার্থী নজীব নাকি খানকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।
সুধানোতি জেলার এই প্রার্থী এর আগে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একাধিকবার আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হয়েছেন। বিধানসভার বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণও তার পক্ষে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পিএমএল-এন ও তাদের মিত্রদের হাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন থাকায় নির্বাচনে তাদের প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনাই বেশি বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
অন্যদিকে, বিরোধী পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিধানসভার সাবেক স্পিকার চৌধুরী লতিফ আকবর।
আইন অনুযায়ী, বিধানসভার কোনো সদস্য একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি পদে থাকতে পারেন না। তবে বর্তমান বিধানসভার দলীয় সমীকরণ ক্ষমতাসীন জোটের প্রার্থীর পক্ষে থাকায় ভোটের ফল অনেকটাই নির্ধারিত—এমন ধারণা রয়েছে।
আট মাস ধরে শূন্য রাষ্ট্রপতির পদ
গত বছরের জানুয়ারিতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সুলতান মাহমুদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর থেকেই আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য রয়েছে।
সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কথা। তবে রাজনৈতিক সমীকরণ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও সরকারের সময়ক্ষেপণের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে আজ ভোটগ্রহণ হচ্ছে।
অস্থিরতার প্রভাব নির্বাচনে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়ও অঞ্চলটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পুরোপুরি কাটেনি। সাম্প্রতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে পুনচ ও সুধানোতি জেলার সাতটি আসনে এখনো বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়ায় ওই আসনগুলোতে ভোটের নতুন তারিখও ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। ফলে এসব আসন শূন্য রেখেই বর্তমান বিধানসভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন না হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, নিজেদের অনুকূলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করার সুযোগ হিসেবেই কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করেছে।
তবে সমালোচকদের বক্তব্য, বিধানসভার কয়েকটি আসনে নির্বাচন না হওয়ায় ওই এলাকার জনগণ কার্যত তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের মতে, বিষয়টি রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে প্রশ্ন তৈরি করলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যে তাৎক্ষণিক বাধা নেই।
এ অবস্থায় সাতটি আসনে নির্বাচন ঝুলে থাকা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই ৫৩ সদস্যের বিধানসভাকে কেন্দ্র করে আজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা



