যুক্তরাষ্ট্র শীঘ্রই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-এর সমস্ত প্রসিকিউটর ও কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে। এটি ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ তদন্তকে আটকালার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্র, যারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই আইসিসির কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এবার পুরো আদালতের ওপর এই পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, আইসিসির কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কূটনীতিকরাও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে, যদিও নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, আইসিসি জাতীয় স্বার্থের জন্য হুমকি হিসেবে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে আদালতের দৈনন্দিন কার্যক্রমে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। বেতন প্রদান, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সুবিধা এবং কম্পিউটার সফটওয়্যারের মতো মৌলিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এই ঝুঁকি কমানোর জন্য কর্মীরা ইতিমধ্যেই ২০২৩ সালের বাকি সময়ের জন্য অগ্রিম বেতন পেয়েছেন। আদালত ব্যাংকিং ও সফটওয়্যারের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছে।
আইসিসি, হেগভিত্তিক এই আদালত, গাজা যুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধের জন্য ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট এবং হামাস নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে।
তিনটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, আইসিসির ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে কিছু দেশ নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলার চেষ্টা করবে। তবে চারটি সূত্র বলেছে, ওয়াশিংটন আরও তীব্রভাবে আইসিসির ওপর চাপ বাড়াবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আইসিসি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার করার এখতিয়ার রয়েছে এই আদালতের। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়, তবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আদালত। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সংঘটিত অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার আইসিসির রয়েছে, যা ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করে।
গত ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউস আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটর করিম খানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। খান ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাইছিলেন। বর্তমানে তিনি যৌন অসদাচরণের অভিযোগের তদন্ত চলাকালীন ছুটিতে আছেন, যদিও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।



