tanaka

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার দক্ষিণ মজুপুর এলাকায় জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রান্নার সময় গ্যাস সিলিন্ডারের মুখে আগুন লেগে এ...

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার দক্ষিণ মজুপুর এলাকায় জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রান্নার সময় গ্যাস সিলিন্ডারের মুখে আগুন লেগে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
প্রচ্ছদসারাদেশআট পিস্তল নিয়ে যুবকের হুঙ্কার, রাউজান-রাঙ্গুনিয়ায় নতুন করে আতঙ্ক

আট পিস্তল নিয়ে যুবকের হুঙ্কার, রাউজান-রাঙ্গুনিয়ায় নতুন করে আতঙ্ক

এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে রাখা আটটি পিস্তল ও একাধিক ম্যাগাজিন। সেসব অস্ত্র সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি দিচ্ছেন এক যুবক। ২১ সেকেন্ডের ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর চট্টগ্রামজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ।

ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘খেলা দেখছো কোথায়। (প্রকাশের অযোগ্য) প্রস্তুত থাক। নোয়াপাড়ায় তোদের অস্তিত্বসহ মিটিয়ে ফেলব।’ এরপর অস্ত্রের দিকে আঙুল দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘টাকা দিয়ে মরণের টিকিট এনেছি। মনে রাখিস। সময় থাকতে ভালো হয়ে যা। চাঁদাবাজি বন্ধ কর। তোদের অবস্থা খুব খারাপ করে দেব। বলে দিলাম, আমি তুফান।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ভিডিওটি কখন এবং কার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ভিডিওতে প্রদর্শিত অস্ত্রগুলো অবৈধ এবং থানায় লুট হওয়া অস্ত্র বলে পোস্টে দাবি করা হয়েছে। তবে অস্ত্রগুলোর প্রকৃত উৎস স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে ‘মামুন চেয়ারম্যানের সমর্থক গোষ্ঠী’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিকে হৃদয় ওরফে বুলেট নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি রাউজানের নোয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

জেলা পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, ফেসবুকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির নাম হৃদয়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এর আগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তিনি আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্রের এমন ‘ডিজিটাল মহড়া’ ছড়িয়ে পড়ায় চট্টগ্রামের উত্তরের দুই উপজেলা রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের নিশানা কখন কার দিকে যায়, কখন ঝরে পড়ে কারও প্রাণ—এমন আশঙ্কা তাড়া করে ফিরছে স্থানীয়দের। ব্যবসায়ী, প্রবাসী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে।

বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এ দুই উপজেলায় সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত গোষ্ঠীগুলো মাঝেমধ্যে চট্টগ্রাম নগরীতেও অস্থিরতা তৈরি করছে। হোয়াটসঅ্যাপ, ভয়েস মেসেজ কিংবা ফোনকলের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, চাঁদা না দিলে হত্যার হুমকি এবং প্রকাশ্যে বাসাবাড়িতে গিয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

গত আড়াই বছরে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় প্রায় ৪০টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে শুধু রাউজানেই ২৭টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বুধবার সকাল থেকে ভিডিওটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তদন্তে উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ধারণা, ভিডিওটি ২০২৫ সালের। নিজেকে জাহির করার জন্যই ওই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

ওসি আরও বলেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির নাম হৃদয় বুলেট। এর আগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।