tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়তাহসিফ হত্যা: জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন দিশা, ফের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন

তাহসিফ হত্যা: জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন দিশা, ফের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন

বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় জেরিকা তাসনিম দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন করে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে নৌ-পুলিশ। আগের দফায় চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে মামলার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন ঢাকার আদালতে এ আবেদন জমা দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আগের দফায় চার দিনের রিমান্ডে দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হয়েছে। এ সময় তিনি মামলার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই এবং ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে দিশা জানিয়েছেন, তাহসিফ সাউরির সঙ্গে ঘটনার আগে ২৭ অক্টোবর রাতে উত্তরার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ গিয়েছিলেন তিনি। একই দিন সন্ধ্যায় একাধিকবার সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকসেও যান। এ ছাড়া তাহসিফের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজেও গিয়েছিলেন দিশা।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে আরও বলা হয়েছে, দিশা নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে তাহসিফের সঙ্গে অবস্থান এবং বিভিন্ন স্থানে তার সঙ্গে মোটরসাইকেলে ঘোরাঘুরির কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তদন্তের স্বার্থে গোপন রেখে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় দিশা একাধিক প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং কিছু বিষয়ে নীরবতা পালন করেছেন। ফলে মামলার প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তাকে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

রিমান্ড আবেদনে মামলার অপর আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, দ্বীপ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন। দিশা ও দ্বীপের দেওয়া বক্তব্য পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ ছাড়া তাহসিফ সাউরির মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করে দিশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, প্রাথমিকভাবে মামলার ঘটনার সঙ্গে দিশার সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং দিশা ও দ্বীপের বক্তব্য যাচাইসহ তদন্তের স্বার্থে সাতটি যুক্তি তুলে ধরে নতুন করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে নৌ-পুলিশ। তবে এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।