ইরানের দেওয়া কয়েকটি শর্ত মেনে নিলে আগামী দুই দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্রকে নির্ধারিত কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। আর দ্বিতীয় দিন থেকেই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।
রোববার (১ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আরাগচি।
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমানো এবং ইরান ও ওমানের নির্ধারিত নতুন নৌপথের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
আরাগচি জানান, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল সাত দিনের। তবে কাতারের পক্ষ থেকে সময়সীমা কমিয়ে পাঁচ দিন বা তার নিচে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। শনিবার কাতারের একটি প্রতিনিধিদলের সফরের সময় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত দুই দিনের মধ্যে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের একটি রূপরেখা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নির্ধারিত কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এরপর দ্বিতীয় দিন হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং জাহাজ চলাচল আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।
ইরানের অন্যান্য শর্তের বিষয়ে আরাগচি বলেন, জুলাইয়ে ইসলামাবাদ সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর আরোপ করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি জুনে দেওয়া তেল রপ্তানির ছাড় পুনর্বহাল এবং কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড় করতে হবে।
এ ছাড়া ইরান ও ওমানের নির্ধারিত নতুন নৌপথের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি, অন্যান্য সব নৌপথ বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের দাবিও জানিয়েছে তেহরান। বিশেষ করে লেবাননে ইসরাইলের হামলা বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তবে ইরানের এই প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর।



