দেশে শিক্ষার হার বাড়ছে, বাড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী তরুণের সংখ্যাও। কিন্তু উচ্চশিক্ষার বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না কর্মসংস্থানের সুযোগ। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের পরও বেকারত্বের বোঝা বইতে হচ্ছে বিপুলসংখ্যক তরুণকে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত যুবকদের বেকারত্বের হার ৩৬ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন উচ্চশিক্ষিত তরুণের ৩৬ জনই কর্মহীন। সরকারি পরিসংখ্যানেও উঠে এসেছে একই ধরনের চিত্র। দেখা যাচ্ছে, স্নাতক ডিগ্রিধারীদের তুলনায় মাধ্যমিক পাস করা ব্যক্তিদের বেকারত্বের হার অনেক কম। অর্থাৎ শিক্ষাগত যোগ্যতা যত বাড়ছে, কর্মসংস্থান পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তাও তত বাড়ছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ পালিত হচ্ছে জাতীয় যুব দিবস। ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে দিবসটি উপলক্ষ্যে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিশিষ্টজনেরা বাণী দিয়েছেন। তবে কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ, দক্ষতার ঘাটতি এবং শিক্ষিত তরুণদের ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের বাস্তবতায় এবারের যুব দিবসে নতুন করে সামনে এসেছে দেশের বিপুল যুবশক্তিকে কাজে লাগানোর প্রশ্ন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বাণীতে বলেছেন, সংগঠিত, দক্ষ ও অঙ্গীকারবদ্ধ যুবসমাজ দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তরুণদের মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। রাষ্ট্রপতির মতে, যুবসমাজ একটি জাতির প্রাণশক্তি এবং উন্নয়নের অন্যতম প্রধান নির্ধারক।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেছেন, যুবসমাজ যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি ও অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, জাতীয় সংকট উত্তরণ এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় তরুণদের অবদান অনস্বীকার্য। স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুবসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানান, এবার চারজন যুব সংগঠক এবং ১০ জন সফল আত্মকর্মীকে জাতীয় যুব পুরস্কার দেওয়া হবে। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ৫৫টি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ মেলার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সারা দেশে ১২ হাজার নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন, যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ এবং যুব ঋণ বিতরণের কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে।
শ্রমবাজারে প্রবেশ বাড়ছে, কর্মসংস্থান পিছিয়ে
দেশের শ্রমবাজারে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ যুক্ত হচ্ছেন। কিন্তু তাঁদের অনুপাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করেছেন প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ যুবক। বিপরীতে একই সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে ৮৭ লাখ। অর্থাৎ শ্রমবাজারে নতুন কর্মী যুক্ত হওয়ার তুলনায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে অনেক কম।
অন্যদিকে সরকারের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) কৌশলপত্র অনুযায়ী, দেশে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি প্রায় ৫৫ লাখ তরুণ শিক্ষা, কর্মসংস্থান কিংবা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নেই। অর্থাৎ কর্মজীবনে প্রবেশের প্রস্তুতি এবং উপযুক্ত কাজের সুযোগ—দুই ক্ষেত্রেই পিছিয়ে রয়েছেন বিপুলসংখ্যক যুবক।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, দেশে শিক্ষিত যুবকের সংখ্যা বাড়লেও সে অনুযায়ী কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। এর পেছনে শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা ও দক্ষতার ঘাটতি বড় কারণ। ফলে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও অনেক তরুণকে বেকার থাকতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ-২০২৪-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনেও বেকারত্ব বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষে দেশে বেকারের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬ লাখ ২০ হাজারে। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ২৪ লাখ ৬০ হাজার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে এক লাখ ৬০ হাজার।
শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে বেকারত্বের হার বিশ্লেষণ করলে পরিস্থিতির আরও উদ্বেগজনক দিক স্পষ্ট হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্নকারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। উচ্চমাধ্যমিক পাস করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ হার ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। মাধ্যমিক পাস করা ব্যক্তিদের বেকারত্বের হার ২ দশমিক ৯১ শতাংশ। আর কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নেই—এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বেকারত্বের হার মাত্র ১ দশমিক ২৫ শতাংশ।
পরিসংখ্যান বলছে, উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও চাকরি না পাওয়ার সমস্যা দেশের শ্রমবাজারে বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার বিস্তার ঘটলেও সেই শিক্ষা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না হওয়ায় উচ্চশিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ হতাশার মধ্যে পড়ছেন।
এশিয়ায় উচ্চশিক্ষিত যুবকদের বেকারত্বে তৃতীয় বাংলাদেশ
আইএমএফের ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সাময়িকীর সেপ্টেম্বর ২০২৬ সংস্করণে প্রকাশিত এক গবেষণায় বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষিত যুবকদের বেকারত্বের হার ৩৬ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণায় ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি যুব জনগোষ্ঠীকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ বয়সি তরুণদের সামগ্রিক বেকারত্বের হার ১০ শতাংশের নিচে থাকলেও উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে তা অনেক বেশি।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে উচ্চশিক্ষিত যুবকদের বেকারত্বের হারে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। এ ক্ষেত্রে শ্রীলংকায় বেকারত্বের হার ৪৩ শতাংশ, ভারতে ৪২ শতাংশ এবং বাংলাদেশে ৩৬ শতাংশ। এরপর রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপিন্স, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান।
আইএমএফের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষিত যুবকদের তুলনায় শ্রমবাজারে উপযুক্ত পদের সংখ্যা কম থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করলেও সেই যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির সুযোগ সীমিত। ফলে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে চাকরি পাওয়ার প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণাতেও চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে। গবেষণা অনুযায়ী, চাকরির ওয়েবসাইট বিডিজবস ডটকমে বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ চাকরিপ্রার্থীর প্রোফাইল রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই লাখ চাকরিপ্রার্থী এ প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে পছন্দের চাকরি খোঁজেন। দুই বছর আগে এ সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় লাখ। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৩৩ শতাংশের বেশি।
চাকরির একটি পদের বিপরীতে গড়ে ২৮৭ জনের বেশি আবেদন করছেন। অথচ করোনাভাইরাস মহামারির আগের পাঁচ বছরে একটি পদের বিপরীতে গড়ে আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ১৭৩ জন। সে হিসাবে একই ধরনের চাকরির জন্য প্রতিযোগিতা বেড়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশ।
চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে ঘাটতি
কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ার পাশাপাশি চাকরিদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরিতেও পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। কিউএস ওয়ার্ল্ড ফিউচার স্কিলস ইনডেক্স-২০২৫ অনুযায়ী, চাকরিদাতাদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির সক্ষমতায় ৮১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৬৭তম।
অন্যদিকে বিবিএসের ‘স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস’ অনুযায়ী, দেশে সামগ্রিক এনইইটি (NEET) হার প্রায় ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ শিক্ষা, কর্মসংস্থান কিংবা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নেই। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) হিসাবে, বৈশ্বিকভাবে এ হার ২২ শতাংশ।
নারীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। দেশে যুব নারীদের প্রায় ৬২ শতাংশ শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছেন। ফলে শুধু চাকরি না পাওয়া নয়, বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। এতে শ্রমবাজারে তাঁদের অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রযুক্তির পরিবর্তনে নতুন চ্যালেঞ্জ
প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিস্তারও ভবিষ্যতের শ্রমবাজারে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আইএমএফের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারলে অনেক কর্মী শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারেন।
ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বর্তমান কর্মীবাহিনীর প্রায় ৪০ শতাংশের দক্ষতা শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের প্রায় ২২ শতাংশ কর্মীকে নতুন পেশা ও কাজের ধরন অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের তরুণদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শিল্প উৎপাদন, আধুনিক কৃষি ও সেবা খাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য যুবসমাজ একই সঙ্গে বড় সম্ভাবনা ও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সি। অর্থনীতির পরিভাষায় এ অবস্থাকে বলা হয় জনমিতিক লভ্যাংশ বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে যথাযথ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে উৎপাদনশীল জনশক্তিতে পরিণত করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
শিল্প ও সেবা খাতে দক্ষ কর্মীর সরবরাহ বাড়লে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। একইভাবে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি ও বিদেশে পাঠানো সম্ভব হলে প্রবাসী আয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে এ জন্য শুধু উচ্চশিক্ষার সনদ বিতরণ নয়, শিক্ষার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদার সমন্বয় ঘটাতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুব বেকারত্ব কমাতে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সম্প্রসারণ, শিল্প খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা ও চাকরিদাতাদের চাহিদার মধ্যে ব্যবধান কমানোও জরুরি।
জাতীয় যুব দিবসে তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার নতুন নয়। তবে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কার্যকর উদ্যোগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ। কারণ, দেশের বিপুল যুবশক্তিকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করা সম্ভব হলে তা অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে। অন্যথায় কর্মসংস্থান ও দক্ষতার অভাবে এই জনমিতিক লভ্যাংশের সম্ভাবনা কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়বে।



