tanaka

নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন, দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জি-৪-এর

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে জি-৪ জোট। ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান নিয়ে গঠিত এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা...
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিমূল্যস্ফীতি নিয়ে এডিবির সতর্কবার্তা, প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ শতাংশ

মূল্যস্ফীতি নিয়ে এডিবির সতর্কবার্তা, প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ শতাংশ

২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটির হিসাবে, ওই অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ শতাংশ। তবে একই সময়ে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এডিবির সর্বশেষ ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) সেপ্টেম্বর ২০২৬’-এ বাংলাদেশের অর্থনীতির এই পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে। এডিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

এডিবি বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিছুটা ধীর হয়ে আসে। তবে এর প্রভাব সীমিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোগ ও বিনিয়োগের তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থান অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে বাহ্যিক অভিঘাত ও অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার কারণে এই পুনরুদ্ধার এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশে সংস্কার ত্বরান্বিত করার এখনই উপযুক্ত সময়।

তিনি বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিস্থাপক প্রবৃদ্ধির পথে নিতে এসব সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কারের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে এডিবি বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।

এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ছিল প্রায় ১০ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে ৮ দশমিক ৭ শতাংশে নামতে পারে। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি আবার বেড়ে প্রায় ৯ শতাংশে উঠতে পারে। জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় সম্ভাব্য বিঘ্ন এবং খাদ্যপণ্যের দামের ওপর জলবায়ুজনিত প্রভাব মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রপ্তানির তুলনায় আমদানি বাড়ায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপির ০ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল থাকলে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পর্যাপ্ত থাকলে দেশের বাহ্যিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে সেবা ও কৃষিখাত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিপরীতে উচ্চ ঋণ ব্যয়, ঋণপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা, জ্বালানি সংকট, দুর্বল বৈদেশিক চাহিদা ও বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যার কারণে শিল্প ও বিনিয়োগ খাত চাপে থাকতে পারে।

এডিবি সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, জ্বালানির উচ্চমূল্য, বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন, কঠোর বাণিজ্য বিধিনিষেধ, প্রধান রপ্তানি বাজারে প্রবৃদ্ধির ধীরগতি, বিনিময় হারের ওপর চাপ, ব্যাংক খাতের সংকট, রাজস্ব সংস্কারে বিলম্ব এবং জলবায়ুজনিত অভিঘাত বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নিম্নমুখী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করা একটি বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটির সদস্যসংখ্যা ৬৯।