tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের মধ্যেই হরমুজের কাছে বিস্ফোরণ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের মধ্যেই হরমুজের কাছে বিস্ফোরণ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়ই হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তাঁর প্রধান দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। বৈঠকটিকে ‘খুব ভালো’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, অদূর ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে আরও আলোচনা হতে পারে।

তবে বৈঠকে অংশ নেওয়া ইরানি কর্মকর্তারা দেশটির ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ের’ ছিলেন না বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, তারপরও এই আলোচনা একটি অগ্রগতির ইঙ্গিত।

প্রথম সরাসরি আলোচনায় আরাকচি

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম সরাসরি আলোচনায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিও অংশ নেন। জুনের শেষ দিকে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে এটিই প্রথম সরাসরি আলোচনা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দূত স্টিভ উইটকফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীরা মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদলের মধ্যে যাতায়াত করে আলোচনার বিভিন্ন বিষয় সমন্বয় করেন।

এই আলোচনাকে ‘গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক’ হিসেবে উল্লেখ করে উইটকফ ভবিষ্যতে আরও অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেন।

এর আগে জুলাইয়ের শুরুতে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দোহায় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে পরোক্ষ আলোচনায় বসেছিলেন। তবে কয়েক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ চললেও তাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

হরমুজের কাছে কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদের বৈঠকের মধ্যেই হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানিয়েছে ইরানের গণমাধ্যম।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, বিস্ফোরণের কারণ এবং এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কেশম দ্বীপে বেশ কয়েকবার বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত কেশম দ্বীপের অবস্থানের কারণে এ ধরনের বিস্ফোরণের খবর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

প্রায় সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। একই সঙ্গে ইরানের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে এবং দেশটিতে মুদ্রা সংকট আরও গভীর হয়েছে।

পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প

এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে থাকা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প।

এনবিসির ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে রুবিও বলেন, সমস্যার সমাধানে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে আলোচনায় বসা মানেই দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে ইরান যুদ্ধের পরবর্তী করণীয় নিয়ে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ—জিসিসির দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। জর্ডানের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তিনি আলোচনা করেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান এবং সংঘাতের অবসানে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরার কথা বলেন।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি হতে পারে, যার মাধ্যমে দেশটি পুনর্গঠন করে আগের চেয়েও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। তবে চুক্তি না হলে ইরানকে ‘দ্রুত ধ্বংস’ করার হুমকিও দেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আরেক দিনের জন্য বিপদ বাড়তে দেওয়ার কোনো আগ্রহ আমার নেই।’

অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং এ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার প্রচেষ্টায় এই নীতির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসানের কোনো পথ তৈরি হয় কি না, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অন্যতম প্রধান আগ্রহের বিষয়। একই সময়ে হরমুজ প্রণালির কাছে বিস্ফোরণের খবর নতুন করে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সূত্র: এনডিটিভি