সিগারেট হাতে না নিলেও তামাকের ধোঁয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পুরোপুরি রক্ষা পাওয়া যায় না। আশপাশে কেউ ধূমপান করলে বাতাসে মিশে থাকা সেই ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে। নিয়মিত এমন পরিস্থিতির মধ্যে থাকলে দীর্ঘমেয়াদে নানা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ফুসফুসের পাশাপাশি ঝুঁকিতে হৃদ্যন্ত্র
অন্য কেউ সিগারেট বা তামাকজাত পণ্য ব্যবহার করার সময় নির্গত ধোঁয়া অনিচ্ছাকৃতভাবে শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করাকে পরোক্ষ ধূমপান বা প্যাসিভ স্মোকিং বলা হয়। অর্থাৎ নিজে ধূমপান না করলেও তামাকের ক্ষতিকর রাসায়নিক থেকে শরীর পুরোপুরি মুক্ত থাকে না।
গবেষণায় পরোক্ষ ধূমপানের সঙ্গে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যানসার, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), স্তন ক্যানসার, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, অ্যাজমা এবং শ্বাসনালির বিভিন্ন সংক্রমণের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
বিশেষ করে শিশুদের জন্য এর ঝুঁকি আরও বেশি। শৈশবে ফুসফুস ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে বিকশিত হয় না। এ সময় নিয়মিত তামাকের ধোঁয়ার সংস্পর্শে এলে তাদের শ্বাসতন্ত্রসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
পরিবারকে রাখতে হবে ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশে
পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষিত রাখতে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হলো ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। বাড়ি, কর্মস্থল কিংবা জনসমাগমস্থলে ধূমপান এড়িয়ে চলার পাশাপাশি শিশু ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সামনে ধূমপান না করার বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।
একজন ব্যক্তি সিগারেট ধরালেও এর ধোঁয়া কেবল তার শরীরেই সীমাবদ্ধ থাকে না। আশপাশের মানুষের শরীরেও তা পৌঁছে যেতে পারে। তাই নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।



