tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকযৌন নির্যাতনকারী বাবাকে যেভাবে ধরিয়ে দিল এক চোর

যৌন নির্যাতনকারী বাবাকে যেভাবে ধরিয়ে দিল এক চোর

৪৯ বছর বয়সী লিজি জোন্সের বয়স ছিল মাত্র চার বছর। তখন থেকেই বাবা ডেভিড টেরেন্স পেথিগ লিজির ওপর যৌন নির্যাতন করতেন। লিজির সঙ্গে কী ঘটেছিল তা তিনি কাউকে বলেননি। তবে এক চোর ডেভিড টেরেন্স পেথিগের ল্যাপটপে হাজার হাজার শিশু নির্যাতনের ছবি খুঁজে পান এবং সোজা গিয়ে পুলিশকে তা জানান। সেই চোর লিজির বাবার ল্যাপটপটি চুরি করেছিলন। তবে লিজির বাবা পেথিগ অশ্লীল ছবি ও ভিডিও রাখার অভিযোগ স্বীকার করলেও তাকে কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের রেক্সহ্যামের বাসিন্দা লিজি তার মাকে এই নির্যাতনের কথা জানানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং পরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। 

লিজি তার বাবা পেথিগ, মা এবং ছোট ভাইয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে একটি বাড়িতেই একসঙ্গে বড় হয়েছেন। যখন তার বয়স চার বছর, তখন পেথিগ তার ওপর তারা যৌন নির্যাতন শুরু করেন। লিজি জানান, তার মা দীর্ঘ সময় কাজের কারণে বাড়ির বাইরে থাকতেন। এই সুযোগে তার বাবা তাকে ভয় দেখাতেন। 

তিনি বলতেন, কাউকে কিছু বললে লিজির মার ক্ষতি হবে।আর কখনও লিজি তার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারবে না। লিজি বলেন, ‘আমি বহু বছর ধরে মাকে সব বলতে চেয়েছি, কিন্তু সাহস পাইনি।’ তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত বাবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

২০১১ সালে লিজির বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। এর আগে তাদের বাড়িতে চুরির ঘটনায় পেথিগের ল্যাপটপে ৮ হাজার ৫০০টির বেশি শিশু যৌন নির্যাতনের ছবি পাওয়া যায়। ল্যাপটপটি চুরি করা ব্যক্তি পরে বিষয়টি পুলিশকে জানান। এরপর তদন্তে পেথিগের বিরুদ্ধে অশ্লীল ছবি তৈরি ও সংরক্ষণের অভিযোগ আনা হয়। তিনি ১৭টি অশ্লীল ছবি তৈরির এবং দুটি অশ্লীল ছবি ও ভিডিও রাখার অভিযোগ স্বীকার করেন। তবে আদালত তাকে কারাদণ্ড দেননি। এরপরই ৪২ বছর বয়সী লিজি সিদ্ধান্ত নেন, বাবার নির্যাতনের কথা তিনি তার মাকে জানাবেন।

লিজি বলেন, ‘মা খুব রেগে গিয়েছিলেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘পুলিশের কাছে সব বলার মতো শক্ত আছো তুমি?’ আমি বলেছিলাম, ‘হ্যাঁ, চল।’ তিনি জানান, এরপরই পুলিশ তাদের বাড়িতে আসে এবং মামলাটি অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়।

লিজির ভাষায়, তার মা সবসময়ই মনে করতেন পেথিগের মধ্যে কিছু একটা সমস্যা আছে। তিনি বলেন, ‘মা আমাকে বলেছিলেন, যদি তিনি বিষয়টি জানতেন, তাহলে কখনও আমার সঙ্গে এমন হতে দিতেন না।’ লিজি জানান, ছোটবেলায় বাবার ভয়ভীতি ও হুমকিকে তিনি সত্যি মনে করতেন। কারণ তার বাবা বলতেন, কাউকে কিছু জানালে তিনি আর কখনও মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডেভিড টেরেন্স পেথিগের বিরুদ্ধে ১৫টি অশালীন ঘটনা, তিনটি ধর্ষণ, অনুপ্রবেশমূলক যৌন হামলা এবং গুরুতর যৌন হামলার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। পরে তিনি সব অভিযোগ স্বীকার করেন। আদালত তাকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া মুক্তির পর আরো ১২ মাস বিশেষ নজরদারিতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

লিজি বলেন, ‘আদালতের মামলার আগেই মা মারা গিয়েছিলেন। তাই তিনি শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল, তা দেখতে পারেননি।’ তিনি বলেন, ‘আমি যা চেয়েছিলাম, তা পেয়েছি। তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এতে আমার সব দুঃসহ স্মৃতি মুছে যায়নি।’

লিজি জানান, বিচার পেলেও সেই নির্যাতনের মানসিক আঘাত এখনও তাকে কষ্ট দেয়। তার ভাষায়, ‘এটা আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। আমি এই নির্যাতনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কবিতার বই লিখেছি।’ তিনি আরো জানান, এখন তিনি থেরাপি নেওয়া শুরু করেছেন এবং আশা করছেন এতে তার দুঃস্বপ্ন ও মানসিক যন্ত্রণা কিছুটা কমবে।