tanaka

তিনবেলা খাবার জুটত না, এখন শাহরুখ সেজে আয় ৫ লাখ রুপি!

একসময় সাইনবোর্ড আঁকাই ছিল জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন। অনিয়মিত আয়ের কারণে সংসার চালানোও ছিল কঠিন। কিন্তু চেহারায় বলিউড তারকা শাহরুখ খানের সঙ্গে অদ্ভুত মিলই...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকলেবানন সংকট ট্রাম্পের ইরান কূটনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ

লেবানন সংকট ট্রাম্পের ইরান কূটনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের সংঘাত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা আবারও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগকে কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে। লেবাননকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-কেন্দ্রিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য নতুন হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সোমবার (১ জুন) পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ইসরায়েলি হামলার হুমকি এবং ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

এ অবস্থায় ইরান অভিযোগ করে, লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করেছে। সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি সত্যিই এসব নিয়ে ভাবি না। আলোচনাগুলো এখন খুবই বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে।”

তবে প্রকাশ্য মন্তব্যের আড়ালে দ্রুত কূটনৈতিক তৎপরতায় নামেন তিনি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে জরুরি ফোনালাপ করেন ট্রাম্প। পাশাপাশি মার্কিন প্রতিনিধিদের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়।

পরবর্তীতে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, উভয় পক্ষ গোলাগুলি বন্ধে সম্মত হয়েছে এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনাও আবার গতিশীল হয়েছে।

ওয়াশিংটনে লেবাননের দূতাবাস জানায়, ইসরায়েল বৈরুতে হামলা থেকে বিরত থাকলে হিজবুল্লাহও আক্রমণ চালাবে না। অন্যদিকে ইসরায়েল জানায়, তারা দক্ষিণ লেবাননে অভিযান অব্যাহত রাখবে, তবে আপাতত বৈরুতে হামলা করবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই হস্তক্ষেপ তাৎক্ষণিক সংকট প্রশমিত করলেও মূল সমস্যার সমাধান হয়নি। ইরান, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের পরস্পরবিরোধী স্বার্থ যেকোনো সময় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষক আলি ফাতহুল্লাহ-নেজাদ বলেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ফোনালাপ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের প্রকৃত ক্ষমতার ভারসাম্যকে স্পষ্ট করেছে।

প্রশ্ন উঠতে পারে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় লেবানন এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের আঞ্চলিক কৌশলে হিজবুল্লাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বহু বছর ধরে তেহরান সংগঠনটিকে অর্থ ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলি হামলায় দুর্বল হলেও হিজবুল্লাহ এখনও লেবাননের অন্যতম প্রভাবশালী শক্তি এবং ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

অন্যদিকে ইসরায়েল হিজবুল্লাহকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে এবং সংগঠনটির সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ চায়। তবে বিভক্ত রাজনৈতিক বাস্তবতায় লেবানন সরকারের পক্ষে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা কঠিন বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।

এ কারণে সীমান্তে যেকোনো নতুন সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাকে আবারও বিপর্যস্ত করতে পারে। এটি ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের মধ্যে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যও তুলে ধরে। যেখানে ইসরায়েল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক চাপকে প্রয়োজনীয় মনে করে, সেখানে ট্রাম্প প্রশাসন একটি রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে।

তবে বাস্তবতা হলো, লেবানন এখনও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দু। ইসরায়েল, ইরান, সিরিয়া এবং বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর স্বার্থের সংঘাতে দেশটি বহু দশক ধরে অস্থিতিশীলতার শিকার।

এদিকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনও বলছে, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ছাড়তে রাজি নয়।

ফলে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা প্রশমিত হলেও মধ্যপ্রাচ্যের জটিল বাস্তবতা ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগের সামনে বড় বাধা হিসেবেই রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থায়ী সমাধানের জন্য শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, বরং একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন। বর্তমানে সেই সমঝোতার কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।