যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় আন্তরিক নয়—এমন অভিযোগ তুলে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ওয়াশিংটন যদি অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি করে, তবে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রেসটিভি।
একই দিন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাকেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য ও কার্যক্রমের মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে, যা তাদের আলোচনায় আন্তরিকতার অভাবকে নির্দেশ করে। “তাদের কথা ও কাজের মধ্যে মিল নেই,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরান নিজের জাতীয় স্বার্থ ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে, ইরানের সব বন্দরে মার্কিন অবরোধ কার্যকর থাকার প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে। ইরানের দাবি, এই অবরোধ যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের শামিল।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র জানিয়েছে, অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে কোনো কার্যকর বোঝাপড়া না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার সম্ভাবনাও নাকচ করেছে তারা।
বাকেই আরও বলেন, যুদ্ধবিরতির শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ‘অসৎ মনোভাব’, পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং নৌ অবরোধের মতো পদক্ষেপের মুখোমুখি হয়েছে ইরান। সম্প্রতি একটি ইরানি জাহাজে মার্কিন হামলার জবাবে তেহরান কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে ওমান সাগরে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। তিনি এই ঘটনাকে ‘চুক্তি লঙ্ঘন ও আগ্রাসী আচরণ’ হিসেবে আখ্যা দেন।
এছাড়া লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বাকেই বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে সব ফ্রন্টে আগ্রাসন বন্ধ করা জরুরি।
ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, অন্য পক্ষ দোষ চাপিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, পরবর্তী দফা বৈঠক নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং অতীতে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিজ্ঞতা ইরান ভুলে যায়নি।
সবশেষে তিনি বলেন, পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে ইরান আলোচনায় আশাবাদী নয়; বরং বাস্তববাদী অবস্থান নিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শত্রুর ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের প্রধান অগ্রাধিকার তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা—এ ক্ষেত্রে কোনো সময়সীমা বা আল্টিমেটাম তারা মেনে নেবে না। যুক্তরাষ্ট্র এখনো ‘অযৌক্তিক ও অবাস্তব’ অবস্থানে অনড় রয়েছে।



