tanaka

জন্মদিনে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা, ধন্যবাদ জানালেন নরেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুভেচ্ছার জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের...
প্রচ্ছদজাতীয়বনানী থেকে অপহরণ ও ইলিয়াস আলী গুম: নতুন তথ্য প্রকাশ

বনানী থেকে অপহরণ ও ইলিয়াস আলী গুম: নতুন তথ্য প্রকাশ

সাবেক ডিজিএফআই মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তারের পর বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী গুম নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। জিজ্ঞাসাবাদে ইলিয়াস আলী গুমের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন, তবে নেপথ্য, গুম প্রক্রিয়া ও যুক্তদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। ডিবি তথ্য যাচাই করছে।

শেখ মামুন খালেদ জানিয়েছেন, ইলিয়াস আলীকে গুম করার সংকেত আগেই দেওয়া হয়েছিল। তিনি টিপাইমুখ বাঁধ ও পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন, যা ওই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সরকারের রোষানলে পড়ার পর তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। গুমের মিশন বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুরো প্রক্রিয়ার রেকি ও বাস্তবায়ন করে র‌্যাব-১, সহযোগিতা করে ডিজিএফআই-এর কিছু কর্মকর্তা। মিশনের প্রধান দায়িত্ব দেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল, বনানী থেকে ইলিয়াস আলী ও তার ব্যক্তিগত গাড়িচালককে অপহরণ করা হয়। তাকে র‌্যাব-১ সদর দপ্তরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধর করা হয়। সূত্র জানায়, ১৭ থেকে ২০ এপ্রিলের কোনো এক রাতে ইলিয়াস আলীকে হত্যা করে ধলেশ্বরী নদীতে লাশ ফেলা হতে পারে।

পরবর্তীতে, ২১ এপ্রিল ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও সন্তানরা তাকে খুঁজে পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। এরপর জিয়াউল আহসান ফোনে ইলিয়াস আলীকে চূড়ান্তভাবে গুম করার ইঙ্গিত দেন।

শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তারের পর তদন্ত তৎপর হয়েছে। তার পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আদালত সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন, পরে আবার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। তিনি জানিয়েছেন, গুম মিশনে কাজ করেছিল ডিজিএফআই ও র‌্যাব-এর একটি বিশেষ টিম, যা আগে থেকে ব্রিফ করা হয়েছিল।

বর্তমানে, গুমে জড়িত র‌্যাব ও ডিজিএফআইয়ের সকল সদস্যকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, কেউ দেশত্যাগ করেছেন, কেউ গা-ঢাকিয়েছেন, কেউ অবসরে গেছেন। মামুন খালেদ জানিয়েছেন, গুম মিশনে ডিজিএফআই-এর দু’জন মেজর প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিলেন এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষপদধারীরাও বিষয়টি জানতেন।

চৌদ্দ বছর পরও ইলিয়াস আলী বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন, তা নিশ্চিত নয়। তৎকালীন সরকারের আমলে কোনো তদন্ত হয়নি। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী লুনাও প্রশ্ন তুলেছেন, “আমার স্বামী ইলিয়াস আলী কোথায়?”

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, অপহরণের রাতে ইলিয়াস আলী শেরাটন হোটেলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিটিং করছিলেন। রাত ১১টার দিকে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলে তাকে অনুসরণ করে জিয়াউলের গুম স্কোয়াড। মহাখালী থেকে বনানীর ২ নম্বর সড়কে গাড়ি থামিয়ে ড্রাইভার ও ইলিয়াস আলীকে অপহরণ করা হয় এবং র‌্যাব-১ সদর দপ্তরে নেওয়া হয়।