বগুড়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলের নামে দুটি নতুন ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার পৈতৃক বাড়ির নাম অনুসারেও একটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি রোববার (১৪ জুন) প্রকাশিত জেলা প্রশাসনের গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে উঠে এসেছে।
জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত গেজেট অনুযায়ী, প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় স্বর্ণগ্রাম, সীমান্ত ও দিগন্ত নামে তিনটি নতুন ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘সীমান্ত’ নামটি প্রতিমন্ত্রীর বড় ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং ‘দিগন্ত’ নামটি ছোট ছেলে মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নাম অনুসারে রাখা হয়েছে।
এছাড়া শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ির নাম অনুসারে ‘মীরবাড়ি’ নামে আরও একটি নতুন ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে মোকামতলা পৌরসভা প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পৌরসভার অনুমোদন কার্যকর হলে নবগঠিত মোকামতলা উপজেলা ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে পরিচালিত হবে।
গেজেট অনুযায়ী, ময়দানহাট্টা ইউনিয়ন বিভক্ত করে ১৭টি মৌজা নিয়ে স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। এ ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৮ হাজার ৯৩৪ জন। সৈয়দপুর ইউনিয়নের ১১টি মৌজা নিয়ে গঠিত সীমান্ত ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৬ হাজার ২৬৭ জন। অন্যদিকে দেউলী ইউনিয়নের ৮টি মৌজা নিয়ে গঠিত দিগন্ত ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৭ হাজার ৭৫৯ জন।
নতুন ইউনিয়ন গঠনের পাশাপাশি অবশিষ্ট মৌজাগুলো নিয়ে ময়দানহাট্টা, দেউলী, সৈয়দপুর, মোকামতলা ও শিবগঞ্জ ইউনিয়ন পুনর্গঠন করা হয়েছে। পুনর্গঠিত ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৪ হাজার ৭৬৭ জন, দেউলী ইউনিয়নের ১৪ হাজার ৩৬০ জন, সৈয়দপুর ইউনিয়নের ১৭ হাজার ৪৭৪ জন, মোকামতলা ইউনিয়নের ১৬ হাজার ৪ জন এবং শিবগঞ্জ ইউনিয়নের ২৬ হাজার ৩০৪ জন নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে শিবগঞ্জ উপজেলায় তিনটি ইউনিয়নের অংশ নিয়ে ‘মীরবাড়ি’ ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ‘মীরবাড়ি’ নামে পরিচিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বেতগাড়ি গ্রামের পৈতৃক বাড়ির নামেই নতুন ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে।
নতুন গঠিত মীরবাড়ি ইউনিয়নের আওতায় ফেনীগ্রাম, সৈয়দপুর, চন্দনপুর, দোপাড়া, তেয়াইল, গোরনা, ধামাহার, বাদলদিঘী, বেতগাড়ি, রামকান্দি, চকগোপাল, ডাবুর, চককানু, হরিপুর ও গোপিনাথপুরসহ মোট ১৫টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইউনিয়নটির মোট জনসংখ্যা ১৮ হাজার ৯২৪ জন।
এছাড়া শিবগঞ্জ পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণ এবং নতুন ইউনিয়ন গঠনের কারণে বিহার, রায়নগর, বুড়িগঞ্জ, কিচক ও আটমুল ইউনিয়নও পুনর্গঠন করা হয়েছে। পুনর্গঠিত বিহার ইউনিয়নে ১০টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং এর জনসংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ হাজার ২১ জন।
জেলা প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকর, গতিশীল ও জনবান্ধব করতে নতুন ইউনিয়ন গঠন এবং বিদ্যমান ইউনিয়নগুলোর পুনর্গঠন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, নতুন ইউনিয়ন গঠন ও পুনর্গঠনের ফলে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণ সরকারি সেবা গ্রহণে আরও সহজ সুযোগ পাবেন।



